অষ্টম কালিমা

37. Page

অষ্টম কালিমা

بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَٰنِ الرَّحِيمِ

اللَّهُ لَا إِلَٰهَ إِلَّا هُوَ الْحَيُّ الْقَيُّومُ

           “আল্লাহ তিনি ছাড়া কোন উপস্যনেই তিনি চিরঞ্জীব চিরন্তন” (সূরা আল ইমরান ২) إِنَّ الدِّينَ عِنْدَ اللَّهِ الْإِسْلَامُ

           “নিশ্চয়ই আল্লাহর নিকট একমাত্র মনোনীত দ্বীন হল ইসলাম” (সূরা আল ইমরান ১৯)

 

তুমি যদি বুঝতে চাও এই দুনিয়ার প্রকৃত অবস্থা এবং তার মধ্যে যে মানবীকতার প্রাণ, দ্বীনের প্রকৃতি ও মানুষের নিকট তার মূল্য। যদি সত্যিকার দ্বীন না থাকত তাহলে দুনিয়া অবশ্যই জেলখানায় পরিণত হত। আর নিশ্চয়ই অস¦ীকারকারী নাস্তিক সবচেয়ে দূর্ভাগা সৃষ্টি। আর নিশيَا اللَّه) ”হে আল্লাহ” ও (لاالَهَ الَّا الله)”আল্লাহ ছাড়া কোন ইলাহ নেই”এই দুটি কালিমা এই বিশ্বের সকল সমস্যার সমাধান ও রহস্য উম্মুচনকারী , মানুষের রূহকে অন্ধকার থেকে উদ্ধারকারী । তুমি এই সকল বিষয় যদি বুঝতে চাও তাহলে এই উপমা স্বরূপ সংক্ষিপ্ত কাহিনীর প্রতি লক্ষ্য কর ও মনোযোগ দিয়ে শুন।

পূর্বের যামানায় দুই সহোদর একসাথে ভ্রমণে বের হয়েছিল। অত:পর তারা অল্প অল্প করে সামনে চলছিল।শেষ পর্যন্ত তারা দুাটি রাস্তার নিকটবর্তী হল। এবং তারা দুজন দুই রাস্তার মাথায় একজন সম্মানিত ব্যক্তিকে দেখতে পেল। দুজন তাকে প্রশ্ন করল কোন রাস্তাটি সর্বোত্তম?

তিনি তাদের দুজনকে বললেন যে, ডান দিকের রাস্তায়  রাষ্ট্রিয় নিয়ম কানুনের বাধ্য বাধকতা রয়েছে কিন্তু এই কষ্টের শেষে নিরাপত্তা ও সুখ শান্তি রয়েছে । আর বাম 



38. Page

দিকের রাস্তায় অনুমতি ও স্বাধীনতা রয়েছে। কিন্তু এই স্বাধীনতা ও অনুমতি মারাত্তক ও দূর্ভাগ্যজনক । সুতরাং এখন তোমাদের দুজনের নির্বাচনের ক্ষেত্রে পূর্ণাঙ্গ এখতিয়ার রয়েছে।

একাথাগুলো শুনে তাদের মধ্যে উত্তম চরিত্রের অধিকারী ভাইটি আল্লাহর উপর ভরসা করে ডানদিকের পথে চলাশুরু করল । এবং নিয়ম কানুন মেনে চলতে রাজি হল। আর অপর চপল বুদ্ধি সম্মন্ন খারাপ চরিত্রের অধিকারী ভাইটি বাম দিকের পথ দিয়ে চলা শুরু করল শুধু স্বাধীনতা থাকার কারনে। যে এই বাম দিকের পথ অবলম্বন করল। তার খেয়াল খুশি যদি আমরা লক্ষ্য করি তাহলে দেখতে পাব যে, সে বাহ্যিক ভাবে সহজ পথে চলছে।কিন্তু বাস্তবে এটা পুরো কাঠিন পথ। তার চলার পথে সে একবার সমতল ভূমিতে চলছে । আরেক বার সে উচু ভূমিতে চলছে । শেষ পর্যন্ত সে এক জন মানবহীন এক মরূভূমিতে প্রবেশ করল।

হঠাৎ করে এক ভীতিকর শব্দ শুনে সে তাকাল এবং দেখতে পেল এক ভয়ংকর সিংহ জঙ্গল থেকে বের হচ্ছে তার উপর ঝাপিয়ে পড়ছে। ফলে সে লোকটি পালাতে থাকল শেষ পর্যন্ত ষাট হাত গভীর একটি কুপের কাছে এসে পৌছল। সিংহের ভয়ে নিজেকে সেখানে ছুড়ে দিল। কুপের মধ্যেখানে হঠাৎ একটি গাছ দেখতে পেয়ে তাকে আঁকড়ে ধরল। গাছটি কুপের দেয়ালে জম্মেছে যার দুটি শিকড় রয়েছে সেখানে দুটি ইদুর বসে সে শিকড় দুটি কাটছিল। একটির রং হলো সাদা আর একটির রং হলো কালো। লোকটি উপরের দিকে তাকিয়ে দেখতে পেল সিংহটি পাহারাদারের ন্যায় কুপের পাশে বসে অপেক্ষা করছে। তারপর নিচের দিকে তাকিয়ে দেখতে পেল একটি ভংকর অজগর সাপ মাথা তুলে আছে যা তার পায়ের এক কদম দূরে অবস্থান করছে তার মুখটা হা করে আছে যা কুপের মুখের মত বিশালাকার। তার পর কুপের দেয়ালের দিকে তাকিয়ে দেখতে পেল অসংখ্য বিষাক্ত, পোকামাকড় তাকে বেষ্ঠন করে আছে। তার পর গাছের উপরের দিকে তাকাল এবং দেখতে পেল গাছটি তিল গাছ কিন্তু অস্বাভাবিক ভাবে গাছটিতে বিভিন্ন গাছের অসংখ্য ফল ধরেছে যা আখদিয়ে শুরু হয়েছে আর ডালিম দিয়ে শেষ হয়েছে।


39. Page

এই লোকটি তার অক্ষতার ও নির্বুদ্ধিতার কারনে বুঝতে পারছেনা যে এই বিষয়গুলো স্বাভাবিক নয়।এ সকল বিষয় হঠাৎ করে সংঘটিত হওয়া সম্ভব নয়। এই আশ্চর্য বিষয়গুলোর মধ্যে অনেক গোপন রহস্য রয়েছে। অনুরূপভাবে সে বুঝতে পারছে না যে এই বিষয়গুলোর পরিচালনা করছে একজন মহান পরিচালক। এখন এই ভয়াবহ বিভিষিকাময় পরিস্থির মধ্যে চুপিসারে তার বুদ্ধি,রূহ ও অন্তরের ক্রন্দন ও আর্তনাদ সত্তেও তার নফসে আম্মারা ঐ গাছ থেকে ফলমুল খাওয়া শুরু করেছে যেন তার আশে পাশে কিছুই ঘটেনি সে যেন বাগানের মধ্যেই আছে। তার নফসকে ধোঁকা দিয়ে কান বন্ধ করে, রূহ ও অন্তরের আওয়াজ না শুনে । অথচ এই ফলগুলোর কিছু কিছু রয়েছে বিষাক্ত ও ক্ষতিকর। হাদীসে কুদসীতে আল্লাহ তায়াল বলেছেন ( أَنَا عِنْدَ ظَنِّ عَبْدِي بِي) আমার প্রতি বান্দা যে ধরনের ধারনা পোষন করে আমি তার ব্যপারে সে রকম। অর্থাৎ আমার বান্দা আমাকে যে রূপ চিনে ,আমার থেকে যেরূপ আশাকরে আমি তার সাথে সে রূপ আচরণ করব। নির্বুদ্ধিতা ও মন্দ ধারনার কারনে এই লোকটি এই রকম ধারণা করল। যা সে প্রত্যক্ষ করল তাকে স্বাভাবিক মনে করল সে এ রকম আচরণ করল ফলে তার সাথে অচিরেই তার ধারণা অনুযায়ী আচরণ করা হবে। অতপর সেখানে তাকে এমন শাস্তি দেয়া হবে যেখানে সে মারা যাবে না এবং বাঁচবেও না । আর এভাবেই আযাবের ক্ষেত পরিবর্তন হবে।

এখন আমরা এই দূর্ভাগাকে আযাবে ভিতরে ছেড়ে দিয়ে তার অপর ভাইয়ের অবস্থা জানি।

ঐ ভাই টি বুদ্ধিমান ও বরকত প্রাপ্ত। সে ভ্রমণ করেছে কিন্তু তার ভাইয়ের মত সংকটময় অবস্থার সম্মুখীন হয়নি। কেননা সে উত্তম চরিত্রের অধিকারী সে ভাল জিনিসের ব্যপারে আশাবাদী ও নিজেকে উপলব্ধি করে। সে তার ভাইয়ের মত দু:খ কষ্ঠের সম্মুখীন হয়নি কেননা সে নিয়ম শৃংখলা জানে স্বীকার করে ও তা অনুযায়ী কাজ করে। ফলে এটা তার জন্য খুব সহজ হয়ে যায়। সে নিরাপদে, শান্তিতে স্বাধীনভাবে ভ্রমন করছে এরূপভাবে সে হঠাৎ করে একটি বাগানের সম্মুখীন হল যাতে রয়েছে কোমল সুস্বাদু পানিয় ও ফলমুল অনুরূপভাবে তার সাথে ওখানে কিছু মন্দ ও নাপাক বস্তু ছিল পরিপূর্ণ রক্ষনাবেক্ষণের অভাবে । ইতি পূর্বে তার ভাই ও ঐ বাগানে প্রবেশ করেছিল কিন্তু সে শুধু মন্দ জিনিসগুলো দেখেছে এবং তা ভক্ষনের মাধ্যমে 


40. Page

তার পাকস্থলী নষ্ট করেছে ফলে সে একটুও শান্তি ও বিশ্রাম না নিয়ে বের হয়ে গেছে। কিন্তু এই ব্যক্তি “ প্রত্যেক জিনিসের উত্তমটা গ্রহন কর” এই নীতির আলোকে সে শুধু মন্দ জিনিসের প্রতিই দৃষ্টি দেয়নি। বরং ভাল জিনিস থেকে উত্তমভাবে উপকৃত হয়েছে। ফলে সে পরিপূর্ণভাবে বিশ্রাম নিতে পেরেছে। তার পর সে তার পথ চলা শুরু করেছে।

এভাবে সে অল্প অল্প করে পথ অতিক্র করে তার ভাইয়ের মত আরেকটি মরূভুমিতে প্রবেশ করেছে। হঠাৎ করে সে সিংহের গর্জন শুনতে পেল এবং দেখতে পেল তার দিকে সিংহটি ধেয়ে আসছে সে ভয়পেল কিন্তু তার ভাইয়ের মত মারাত্তক ভয়পায়নি কারন সে ভাবল এই মরূভুমিতে অবশ্যই একজন শাসক আছেন তার আদেশে ঐ সিংহ তার খাদেম হয়ে যেতে পারে।এরকম উত্তম ও সুন্দর ধারনা করে সে কিছুটা শান্তনা পেয়েছে। তা সত্তেও সে সিংহ থেকে পালিয়েছে । শেষ পর্যন্ত একটি পানিহীন কুয়ার সন্ধান পায় যা ষাট হাত গভীর। অবশেষে নিজেকে সেখানে ছুড়ে দেয়। আর তার ভাইয়ের মত করে কুপের মাঝখানে একটি গাছ পায় এবং তা আকড়ে ধরে। ফলে সে শূন্যের উপর ঝুলতে থাকে তখন দেখতে পায় দুটি প্রাণী গাছের শিকড় দুটি কাটছে। তার উপরের দিকে তাকালো তাতে একটি সিংহ দেখতে পেল তার পর নিচের দিকে তাকাল তাতে একটি অজগর সাপ দেখতে পেল । ঠিক তার ভাইয়ের মত গাছের মধ্যে আশ্চর্য জিনিস দেখতে পেল তাতে সে হতবুদ্ধি হয়ে গেল কিন্তু তার হতবুদ্ধি তার ভাইয়ের চেয়ে হাজার গুণ কম ছিল । কেননা তার উত্তম চরিত্র তাকে উত্তম চিন্তা করতে শিখিয়েছে। তাই এই সুন্দার চিন্তার কারনে সে সকল কিছুর মাঝে সুন্দর দিকটাই দেখতে পায়।

আর এই কারনেই সে এই আশ্চার্য জিনিসের মাঝে দেখতে পেল প্রত্যেকটা একটি অন্যটির সাথে সম্পৃক্ত । প্রত্যেকেই একজনের আদেশেই চলছে । সুতরাং এই বিষয়গুলোতে একটি অলৌকিক রহস্য রয়েছে।

হ্যাঁ, বাস্তবেই এই জিনিসগুলো একজন অদৃশ্য শাসনকর্তার আদেশেই চলছে। আমি এখানে একা নই । এই অদৃশ্য শাসক আমাকে দেখছেন, পর্যবেক্ষণ করছেন এবং পরীক্ষা করছেন। বিশেষ উদ্দেশ্যে ও বিশেষ দিকে আমাকে ডাকছেন, হাকিয়ে নিচ্ছেন। এই মৃদু


41. Page

ভয় ও সুন্দর চিন্তা তাকে অনুসন্ধানী প্রিয় করে তোলে । সে বলতে থাকে হ্যাঁ কে আমাকে পরীক্ষা করছে। আমাকে নিশ্চয়ই তার পরিচয় দিতে চাচ্ছে আশ্চর্যজনক পদ্ধতিতে ও বিশেষ উদ্দেশ্যে আমাকে হাকিয়ে নিচ্ছে ? রহস্য উম্মোচনের ভালবাসা থেকে রহস্যের মালিকের প্রতি ভালবাসা সৃষ্টি হয়েছে। তারপর ঐ ভালবাসা থেকে রহস্য উম্মোচনের আগ্রহ সৃষ্টি হয়েছে । আর ঐ আগ্রহ থেকে জম্ম নিয়েছে উত্তম আবস্থা গ্রহন করা যা রহস্যের মালিক কে আশ্চার্যান্বিত ও সন্তুষ্ট করে।

অত:পর সে গাছটি দেখতে পেল যে গাছটি হল ত্বীন গাছ কিন্তু তাতে হাজার গাছের ফল বহন করছে তখন তার ভয় একদম চলে গেল কেননা সে নিশ্চিত হয়েছে যে নিশ্চয় এই ত্বীন গাছটিতে সকল কিছুর তালিকা ও প্রদর্শনী রয়েছে। নিশ্চয় ঐ অদৃশ্যের শাসক তার বাগানের ঐ গাছটিতে রহস্য ও মুজিযার মাধ্যমে ফলের আকৃতির মালা পরিয়ে দিয়েছেন। মনে হচ্ছে এ গাছটি তিনি সে ভাবেই সাজিয়েছেন যে ভাবে কোন মেহমান আসলে খাবার সাজানো হয়। তা নাহলে একটি গাছে বিভিন্ন প্রজাতির হাজার গাছের ফল ধরতে পারে না। অত:পর সে কাকুতি মিনতি করা শুরু করল শেষ পর্যন্ত তাকে মু’জিযা ও রহস্যের চাবি ইলহাম করা হল , সে চিৎকার করে বলতে থাকে হে পৃথিবীর শাসক তোমার দরজায় করাঘাত করছি।তোমার আশ্রয়ে প্রবেশ করেছি । নিশ্চয়ই আমি তোমার খাদেম , তোমার সন্তুষ্টি কামনা করছি,তোমাকে খুজছি, তোমার গুণগান করছি।

এই কাকুতি মিনতির পর হঠাৎ করে কুপের দেয়াল ফেটে গেল এবং চমৎকার , সুন্দর ও নিরাপদ একটি বাগানের দিকে একটি দরজা খুলে গেল বরং অজগরের মুখটিই দরজায় রূপান্তরিত হল । সিংহ ও অজগর দুটি খাদেমের আকৃতি ধারণ করল । তাকে প্রবেশের জন্য ডাকল এমন কি সিংহটি একটি আনুগত ঘোড়ায় পরিণত হল।

হে আমার অলস নফস, হে আমার কল্পনার সাথী এসো এই দুই ভাইয়ের অবস্থা তুলনা করি। তাহলে অবশ্যই জানতে পারবে ও দেখতে পারবে কিভাবে কল্যাণ কল্যাণকে বয়ে আনে আর মন্দ মন্দকে নিয়ে আসে।


42. Page

লক্ষ্য কর কিভাবে দূর্ভাগাটি বাম দিকের পথ অবলম্বন করল ফলে অজগরের মুখে প্রবেশ করেছে। প্রত্যেক মূহুর্তে সে ভয়ে কেঁপে উঠছে। আর ঐ সৌভাগ্যশীল ভাইটিকে ফলে ফুলে ভরপুর আনিন্দ সুন্দর বাগানে তাকে স্বাগত জানানো হচ্ছে।

কিভাবে ঐ দূূর্ভাগা প্রচন্ড ভয়ে ও হতবুদ্ধিতার মহা কষ্টে তার অন্তর ছিন্ন বিছিন্ন হয়ে যাচ্ছে। অপর দিকে সৌভাগ্যবান ভাইটি মৃদু ভয় , আনন্দদায়ক অভিজ্ঞতা ও প্রমিকের পরিচয়ের মাধ্যমে অদ্ভুদ ও অতি আশ্চর্যের জিনিস প্রত্যাক্ষ করছে।

কিভাবে ঐ দূর্ভাগা একাকীত্ব, হতাশায় ও বিষন্নতায় কষ্ট ভোগ করছে । অপর দিকে সৌভাগ্যশীল ব্যক্তি আশা আকাংখায় ও বন্ধুত্বের সুখ পাচ্ছে।

কিভাবে দূর্ভাগা লোকটি নিজেকে বন্য হিংস্র প্রাণীর আক্রমনের শিকার মনে করেছে । অপর দিকে সৌভাগ্যশীল ব্যক্তিটি সম্মানিত মেহমান হিসেবে আনন্দ খুশি করছে আর উপলব্দি করছে মহান মেযবানের আশ্চর্য সেবকদের।

আর কিভাবে দূর্ভাগা লোকটি তার শাস্তিকে তরান্বিত করেছে । বাহ্যিকভাবে সুস্বাদু কিন্তু বাস্তবে বিষাক্ত ফল খাওয়ার মাধ্যমে । ঐ ফলগুলো ছিল নমুনাস্বরূপ তার স্বাদ নেয়ার অনুমতি ছিল মানুষের যাতে এগুলোর মূল কোথায় , কোথা থেকে উৎসরিত হয়েছে তা অনেষ¦ণ করে ও তার খরিদদার হওয়া । কিন্তু জীবজন্তুর মত উদর ভর্তি করার অনুমতি ছিলনা। কিন্তু ঐ সৌভাগ্যবান ব্যক্তি সেও স্বাদ আসাদন করেছে এগুলোর বাস্তবতা চিন্তা করে তার খাওয়াটা দেরী করেছে। অপেক্ষার মাধ্যমে তৃপ্তি পেয়েছে ।

কি ভাবে ঐ দূর্ভাগা নিজের বিবেচনা শক্তি হারিয়ে নিজের উপর নিজে জুলুম করেছে। দিনের আলোর মত সুম্পষ্ট বাস্তবতা ও আলোকিত অবস্থাকে জাহান্নামের গাড় অন্ধকারে ও কাল্পনিক আকৃতিতে রূপান্তিত করেছে।

সুতরাং সে কোন ধরনের সহানুভুতি পাবার অধিকারী নয়। কারো কাছে কোন অভিযোগ করার ও তার অধিকার নেই।

উদাহরণ স্বরূপ :


43. Page

বসন্ত কালে প্রিয়জনদের সাথে সুন্দর বাগানে চমৎকার মেহেমানদারী উপভোগ যদি কোন ব্যক্তিকে পরিতুষ্ট করতে না পারে বরং নিজেকে নিকৃষ্ট নেশার গোলে মাতাল করে ফেলে এবং তার নিজেকে শীতকালের ক্ষুধার্থ হিংস্র বন্য প্রাণীর মধ্যখানে ধারণা করে। অতঃপর চিৎকার ও কান্নাকাটি শুরু করে তাহলে এই ব্যক্তি সহানুভুতি পাবার অধিকারীনয়। সে নিজের উপর নিজে জুলুম করেছে তার প্রিয়জনদের হিংস্র প্রাণী মনে করেছে ও তাচ্ছিল্য করেছে। এই দূর্ভাগা লোকটির উদাহরণ হল ঐ লোকটির মত ।

কিন্তু সৌভাগ্যবান ব্যক্তি বাস্তবতা দেখেছে আর বাস্তবতার প্রকৃতি খুব সুন্দার। বাস্তবতার সৌন্দর্য অনুধাবনের মাধ্যমে বাস্তবতার ¯্রষ্টার পূর্ণাঙ্গতাকে সম্মান করেছে। ফলে সে তার রহমত পাওয়ার অধিকারী। আর এখানেই কুরআনের হুকুমের রহস্য প্রকাশ পাচ্ছ। ( مَا أَصَابَكَ مِنْ حَسَنَةٍ فَمِنَ اللَّهِ ۖ وَمَا أَصَابَكَ مِنْ سَيِّئَةٍ فَمِنْ نَفْسِك) “তুমি কল্যাণ কর যা পাও তা আল্লাহর পক্ষ থেকে আর তোমার উপর যে অকল্যাণ আপতিত হয় তা তোমার নিজের কারনে ” সূরা নিসা আয়াত ৭৯।

সুতরাং তুমি যদি এই দুই লোককে তাদের মাঝে এই সকল ও অন্যান্য পার্থক্য গন্যকরে তুলনা কর তাহলে বুঝতে পারবে যে নফসে আম্মারাই প্রথম ব্যক্তির নিকট মানুষিকভাবে জাহান্নাম কে উপস্থিত করেছে। আর অন্য দিকে অপর ব্যক্তির উত্তম নিয়ামত উত্তম ধারণা উত্তম চরিত্র ও উত্তম চিন্তা ভাবনা এই সকল কিছু তাকে বিশাল অনুগ্রহ, মর্যাদা, মহা আনন্দ ও আলোকময় প্রবাহ পাইয়ে দিয়েছে।

হে নফস এবং যে আমার নফসের সাথে এই ঘটনা শুনেছ তোমরা যদি ঐ দূর্ভাগা ভাইয়ের মত হতে না চাও বরং সৌভাগ্যশীল ভাইয়ের মত হতে চাও তাহলে তোমরা মনযোগ দিয়ে কুরআনের কথা শুন ও তার হুকুমের আনুগত্য কর এটাকে আকড়ে ধর ও তার হুকুম আহকাম অনুযায়ী আমল কর। তোমরা যদি এই উপমা মূলক ঘটনার প্রকৃত অবস্থা বুঝতে পার তাহলে তোমার পক্ষে সম্ভব হবে দ্বীন-দুনিয়া মানুষ ও ঈমানের ক্ষেত্রে বাস্তবায়ন করা। আমি তোমাদের জন্য তার গুরুত্ব উল্লেখ করেছি তোমরা নিজেরাই তার যথার্থতা বের করবে। এই ভাই দুই জন তার একজন হল মুমিন ব্যক্তির রূহ ও সৎকর্মশীল ব্যক্তির অন্তর আর অপর জন হল কাফিরের রূহ ও ফাসিকের অন্তর।

َ

44. Page

আর দুটি রাস্তা: তার মধ্যে ডান দিকের পথ হল কোরআন ও ঈমানের পথ আর বাম দিকের রাস্তা হল কুফরী ও অবাধ্যতার পথ।

আর ঐ রাস্তায় যে বাগান: সেটা হল মানব সমাজ ও মানব সভ্যতার অস্থায়ী সামাজিক জীবন যাতে কল্যাণ, অকল্যাণ, ভাল, মন্দ পবিত্র ও নোংরা সব একসাথে পাওয়া যায় । সুতরাং বুদ্ধিমান সেই যে এই সুত্র অনুযায়ী কাজ করে “যা পরিচ্ছন্ন তা গ্রহন কর আর যা ময়ল তা বর্জন কর এবং অন্তরের সুস্থতা নিয়ে চল”

আর ঐ মরুভুমি হল এই পৃথিবী ও দুনিয়া । আর সিংহ হল মৃত্যু, শেষ পরিণতি আর ঐ কুপ হল মানুষের শরীর ও জীবনের সময়।

আর কুপের ষাট হাত গভীরতা বলতে মানুষের হায়াতের মধ্যম অবস্থা। ষাট বছরের দিকে ইশারা করা হয়েছে।

আর ঐ গাছটি হল জীবনের স্থিতিকাল ও বিষয় বস্তু¦

আর ঐ কালো ও সাদা প্রাণী দুটি হল দিন ও রাত্র।

আর ঐ অজগরটি হল বরযাখে যাওয়ার রাস্তা, আখেরাতের করিডোর আর তার মুখ হল কবর। কিন্তু মুমিনের জন্য ঐ মুখটি জেলখান থেকে জান্নাতে যাওয়ার দরজা খুলে দেয়।

আর ঐ ক্ষতিকর পোকা মাকড় গুলো হল দুনিয়ার আপদ বিপদ। কিন্তু মুমিনের জন্য ইলাহী সতর্কতা ও রহমানী সম্মান ও পুরষ্কার রয়েছে ফলে সে গাফলতিতে ডুবে থাকেনা।

আর গাছের উপর ঐ ফল মুল সেটা হল দুনিয়াবী নেয়ামত মহান আল্লাহ তায়ালা এগুলোকে আখেরাতের নেয়ামতের তালিকা আকৃতিতে ও তার সাদৃশ্য ও নিদর্শন আকারে করে দিয়েছেন। এবং দুনিয়াতে তার একটা নমুনা স্বরূপ করেছেন যা তার ক্রেতাদেরকে জান্নাতের ফল কেনার জন্য ডাকছে।

আর ঐ একই গাছে বিভিন্ন প্রজাতির বিভিন্ন ধরনের ফলগুলো ইঙ্গিত দিচ্ছে অমুখাপেক্ষী সত্তার মহান ক্ষমতার দিকে।ইলাহী সাম্রাজ্যের সিলমহরের দিকে কেননা 


45. Page

”তিনি সকল কিছুকে একটি জিনিষ থেকে সৃষ্টি করেছেন” অর্থাৎ সকল ফল মুল তরু লতা সৃষ্টি করেছেন একই মাটি থেকে আর সকল প্রাণীকুল সৃষ্টি করেছেন একই ধরনের পানি থেকে । একটি সামান্য খাবারের মধ্যে জীবনের সকল জৈবিক উপাদান থাকা সত্তেও ”তিনি সকল জিনিষ কে একটি জিনিষে পরিণত করেছেন ।” অর্থাৎ বিভিন্ন প্রজাতির খাবার থেকে একই ধরনের গোশত ও একই ধাচের চামড়া তৈরী হচ্ছে এই ধরনের অপূর্ব সৃষ্টিই চিরস্থায়ী সুলতানের বিশেষ আলামত। তিনি সেই সত্তা যিনি একক ও অমুখাপেক্ষী । তার বিশেষ সিলমহর ও চিন্হ যা জাল করা কারো পক্ষে সম্ভব নয়।

ঠিক; সকল জিনিষ কে এক জিনিষ থেকে তৈরী করা এবং সকল জিনিষকে এক জিনিষে রূপান্তিত করা সকল কিছুর উপর ক্ষমতাবান সকল কিছুর ¯্রষ্টার একটি বিশেষ আলামত।

আর ঐ তালসাম বা রহস্যময় জিনিসটি হল সৃষ্টির গোপন কোড যা ঈমানের মাধ্যমে খুলা যায় ও সমাধান করাযায়।

আর ঐ চাবিيَاالله * لَااله الااللهُ* اللهُ لااله الَّاهُوَالحَيُّ القَيُّوم   এই কালিমাগুলো।

আর অজগরের জান্নাতের দরজায় রূপান্তি হওয়া এটা হল একটা ইঙ্গিত যে, যদিও কবর হল পাপিষ্ঠ ও পথভ্রষ্টদের জন্য নি:সঙ্গতা ও বিস্মৃতির ক্ষেত্রে বিরক্তিকর ও স্বাসরূদ্ধকর বন্দিখানার ন্যায় এবং অজগরের পেটের ন্যায় সংকীর্ণ গতির দরজা স্বরূপ। কিন্তু এটা ঈমানদার ও কুরআনের অনুসারীদের জন্য দুনিয়ার জেলখানা থেকে চিরস্থায়ী বাগানে যাবার দরজা খুলে দেয় । পরীক্ষার ময়দান থেকে জান্নাতের বাগানে ও দুনিয়ার কষ্ট থেকে রহমানের রহমতের দিকে দরজা খুলেদেয়।

আর হিংস্র সিংহের আনন্দ দায়ক সেবকও বশিভুত ঘোড়ায় রূপান্তিত হওয়া হল সেই দিকে ইঙ্গিত যে মৃত্য হল যদিও পথ ভ্রষ্টদের জন্য প্রিয় জনদের থেকে চিরস্থায়ী কষ্টদায়ক বিচ্ছিন্নতা ও আকর্ষনীয় দুনিয়বী জান্নাত থেকে বের করে একাকী,নি:ঙ্গতায় সাথে কবরের জেলখানায় পবেশ করে বন্দি করা। কিন্তু এটা কোরআনে অনুসারী ও হেদায়াত প্রপ্তদের জন্য তাদের প্রিয় জনদের যারা ইতিপূর্বে অন্য দুনিয়ায় পারি


46. Page

জমিয়েছে তাদের সাথে মিলিত হওয়ার মাধ্যম এবং আসল জম্মভুমি ও চিস্থায়ী সুখস্বাচ্ছেন্দের স্থানে প্রবেশ হওয়ার মাধ্যম । এটা তাদের জন্য দুনিয়ার কারাগার থেকে জান্নাতের বাগানে যাবার আহবান ও তাদের কাজের বিনেময়ে দয়াময় রহমানের পক্ষথেকে প্রতিদান পাবার অপেক্ষা। দুনিয়ার জীবনের দায়িত্ব থেকে মুক্তি ও দাসত্বের অনুশীলন,পরীক্ষা ও প্রশিক্ষণের পরিসমাপ্তি।

মোট কথা :

যে এই ধ্বংসশীল জীবনকেই মৌলিক উদ্দেশ্যে বানিয়ে ফেলে সে মানুষিক ভাবে জাহান্নামেই আছে যদিও বাহ্যিক ভাবে সে জান্নাতে থাকে । আর যে চিরস্থায়ী জীবনের দিকে আন্তরিকভাবে অভিমুখী হয় সে দুনিয়া ও আখেরাতে দুই জায়গায়ই সুখ স্বাচ্ছন্দ ভোগ করবে। দুনিয়াতে সে যতই কষ্টে থাকুক না কেন সে তা মেনে নেয় ধর্য্যরে সাথে কেননা সে তার দুনিয়াকে জান্নাতের অপেক্ষার স্থান হিসেবে দেখতে পায়।

হে আল্লাহ আমাদের কে ঈমান ,কুরআন ও সুখ শান্তির অধিকারী বানিয়ে দাও। (আমিন..)

হে আল্লাহ দূরূত ও সালাম পৌছিয়ে দাও আমাদের নেতা মুহাম্মাদ (সা:) এর উপর তার পরিবার পরিজন ও সাথীদের উপর । সকল গঠিত শব্দের অক্ষর গুলোর সমপরিমান অনুরূপ সকল শব্দ যেটা রহমানের অনুমতিতে প্রথম কুরআন নাযিল হওয়া থেকে শুরু করে শেষ জামানা পর্যন্ত কুরআনের পাঠক কুরআনের যত শব্দ পাঠ করেছে। এই শব্দ উচ্চারণ করতে গিয়ে মুখে বাতাসের যত বার তরঙ্গ হবে তত সংখ্যা পর্যন্ত । আমাদের পিতা মাতার উপর রহম করুন। সকল মুমিন নারী পুরুষদের উপর আপনি রহম করুন ঐ সংখ্যার মত তোমার রহমত দিয়ে হে দয়াকারীদের মধ্যে সবচেয়ে বড় দয়াবান, আমিন । সকল প্রশংসা বিশ্বজাহানের প্রভুর জন্য।