চতুর্থ কালিমা
NAVIGATION
15. Page
চতুর্থ কালিমা
بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَٰنِ الرَّحِيمِ
الصّلَاةُ عِمَدُ الدِّيْن)
নামাজ হলো দ্বীনের খুটি
যেভাবে দুই ও দুই গুন করলে চার হয় সেরকম নিশ্চিত হয়ে তুমি যদি জানতে চাও যে, কিভাবে সালাত হল উচ্চ মর্যাদা সম্পন্ন ও খুব বেশী গুরুত্বপূর্ণ। কি ভাবে এটা আদায়করা সহজ করা হয়েছে এবং তাতে খুব কম কষ্ট রয়েছে,কিভাবে নামাজ পরিত্যগকারী একজন ক্ষতিগ্রস্থ ও অপ্রকৃতস্থ মানুষ। তাহলে নিচের উপমা মুলক ছোট ঘটনাটার প্রতি দৃষ্টি দাও অতঃপর চিন্তাভাবনা কর।
কোন এক যুগে একজন শাসক তার খাদেমদের মধ্যে থেকে দুইজনকে দুই মাস সফরের দূরত্বে তার বিশেষ সুন্দর একটি খামারে থাকার জন্য প্রেরণ করলেন। এই জন্য তাদের প্রত্যেকে চাব্বিশ টি করে স্বর্ণ মুদ্রা প্রদান করলেন এবং তাদের দুজনকে আদেশ করলেন এই অর্থ পথ খরচ, টিকেট ও থাকার জন্য প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র ক্রয়ের জন্য খরচ করবে । আর একদিনের দূরত্বের মধ্যেই স্টেশন রয়েছে যাতে আছে গাড়ি, নৌকা ও ট্রেন আর প্রত্যেকে তার সামর্থ অনুযায়ী এই সকল বাহনে আরোহণ করবে ।
দিক নির্দেশনা পাওয়ার পর খাদেম দুজন পথ চলা শুরু করল। তাদের মধ্যে একজন ভাগ্যবান ছিল অল্প পয়সা খরচ করেই সে স্টেশনে পৌছতে পারল । তার সাথে কিছু লাভ জনক ব্যবসাও করল এবং তার মূল ধন এক থেকে হাজারে পৌছাল আর এর মাধ্যমে তার মনিবকে আশ্চার্যাণ্বিত করল।
কিন্তু অন্য খাদেম ছিল চপল বুদ্ধি সম্পন্ন দূর্ভাগা। সে স্টেশন পর্যন্ত পৌছতে দুইটি স্বর্ণ মুদ্রাই খরচ করে ফেলল। সে এগুলোকে খেলাধুলা জুয়া ইত্যাদিতে অপব্যয় করল ও ধ্বংশ করল। তার নিকট একটি মাত্র স্বর্ণ মুদ্রা অবশিষ্ট থাকল। তখন তার সঙ্গী তাকে বলল :
16. Page
ঐ ব্যক্তির কথা শুনার পর দুই সৈনিকের একজন ডান দিকের রাস্তা অবলম্বন করল এবং তার কাধে ও পিঠে ভারী ভারী ব্যাগ বহন করল ফলে তার অন্তর ও রুহ ভয়ভীতি ও করুনার হাজারো বোঝা থেকে নিস্কৃতি পেল।
কিন্তু অন্য দূর্ভাগা সৈনিকটি সেনাবাহিনীর নিয়ম শৃংখলা মানতে অস্বীকার করল এবং সৈনিকের পদ ছেড়ে দিল এবং বাম দিকের রাস্তা অবলম্বন করল ফলে তার শরীর কিছু বোঝা বহন করা থেকে নিস্কৃতি পেল কিন্তু তার অন্তর প্রচন্ড কষ্টের কারনে দূর্বল ও মাটিতে তলিয়ে গেল এবং হাজার হাজার অপমানের ভারে চূর্ণ বিচূর্ণ হয়ে গেল আর তার রুহ সিমাহীন ভয়ভীতির মধ্যে পতিত হল এবং চলার পথে প্রত্যেকের কাছে তার ভিক্ষা চাইতে হল। যে কোন ঘটনা ও যে কোন ব্যাপারে কম্পিত হল এভাবে সে তার কাংক্ষিত স্থানে পৌছাল এবং সেখানে সে অবাধ্য ও পলায়ন কারীর শাস্তির সম্মুখীন হল।
কিন্তু ডান দিকের পথ অবলম্বনকারী , অস্ত্র ও ব্যাগ ব্যাগেজ সংরক্ষণকারী সামরিক শৃংখলাকে পছন্দ কারী সৈনিকটি অত্যান্ত প্রশান্ত অন্তরে আনন্দচিত্তে কোন ধরনের করুনা ও ভয়ভীতি ছাড়াই পথ অতিক্রম করেছে এভাবেই তার কাংখিত শহরে পৌছেছে । এবং সেখানে একজন মর্যাদাবান সৈনিকের পুরুষ্কার পেয়েছে।
সুতরাং হে অবাধ্য অন্তর, জেনে রাখো ঐ পথ অবলম্বনকারী দুজনের একজন আল্লাহর আইনের আনুগত্যকারীদের প্রতিনিধিত্ব করেছে আর অপর জন অবাধ্য ও নফসের কুমন্ত্রনার অনুসারীদের প্রতিনিধিত্ব করেছে। আর ঐ রাস্তাটি হল জীবন চলার পথ যা রুহের জগত থেকে শুরু হয়ে কবর অতিক্রম করে আখেরাত পর্যন্ত বিস্তিত।
আর ঐ ব্যাগ ও অস্ত্র হল যথাক্রমে ইবাদত ও তাকওয়া কেননা বাহ্যিক ভাবে যদিও ইবাদতে কিছুটা বোঝা রয়েছে কিন্তু বাস্তবে তাতে রয়েছে এমন হালকা ও প্রশান্তি ভাব যা ভাষায় বর্ণনা করা যাবেনা । যখন একজন বান্দা তার নামাজে“ أَشْهَدُ أَنْ لَا اله الَّا الله” অর্থাৎ আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি আল্লাহ ছাড়া কোন ইলাহ নেই, আল্লাহ ছাড়া কোন সৃষ্টিকর্তা নেই , রিযিকদাতা নেই সকল কল্যান ও ক্ষতি তারই হাতে তিনি প্রজ্ঞাময় তিনি অহেতুক কোন কাজ করেন না তিনি হলেন করুনাময় খুব বেশি দয়া ও ইহসানকারী।
17. Page
তাঁর উপর দৃঢ বিশ্বাসের কারনে প্রত্যেক কিছুর মাঝেই রহমতের দরজা খুজে পায় তাই এই দরজাগুলোতে সে দুআ’র মাধ্যমে করাঘাত করে । অনুরুপভাবে সে দেখতে পায় প্রত্যেকটি জিনিসই তার রবের আদেশে বষিভূত ফলে সে সেই দিকে আশ্রায় গ্রহন করে। প্রত্যেক বিপদে আপদে তার উপর ভরসা করে, নির্ভর করে ফলে সুরক্ষিত হয়।
নিশ্চয়ই সাহসিকতার উৎস হল ঈমান ও আল্লাহর দাসত্ব যা সকল প্রকৃত ভাল কাজের মধ্যে পাওয়া যায় । অনুরূপ ভয়ভীতির উৎস হল পথভ্রষ্টতা যা সকল মন্দ কাজের মধ্যে পাওয়া যায়।
হ্যাঁ নিশ্চয়ই প্রকৃত আল্লাহর ইবাদত কারী পরিপূর্নভাবে আলোকিত অন্তরের হয়ে থাকে যদি সমগ্র পৃথিবী একটি বোমায় রুপান্তিত হয় এবং বিস্ফোরিত হয়, তা তাকে ভয় দেখাতে পারবেনা, বরং সে অত্যান্ত চমৎকার বুদ্ধিমত্তার সাথে অলৌকিক অমুখাপেক্ষী সত্তার ক্ষমতা প্রত্যক্ষ করবে । পক্ষান্তরে ভয়ে প্রকম্পিত হয়ে উঠবে প্রসিদ্ধ দার্শনিক যার ব্যাপারে বলা হয় আলোকোজ্জল বুদ্ধির অধিকারী । কিন্তু পাপীষ্ঠ মৃত অন্তরের অধিকারী যখন আকাশে ধুমকেতু দেখতে পায় তখন সরাসরি জিজ্ঞাসা করতে থাকে হায় ! এই দিকভ্রান্ত তারকাটি আমাদের এই পৃথিবীকে আঘাত করবে নাতো! সে কল্পনায় নিমজ্জিত হবে।(বাস্তবে এই রকম ঘটে ছিল আমেরিকাতে, এই ধরনের তারকা দেখে তাদের অনেকে রাতে ভয়ে ঘর থেকে বের হয়ে যায়।)
হ্যাঁ, মানুষ সীমাহীন জিনিসের প্রতি মুখাপেক্ষী হওয়া সত্তেও তার মূলধন হলো ”কিছুই নেই” এই বিধানের আওতাধীন । আর সীমাহীন বিপদ আপদের সম্মুখীন হওয়া সত্তেও তার ক্ষমতার সীমানা হল ”কিছুই নেই”এই বিধানের আওতাধীন । যেন তার ক্ষমতা ও মূলধনের সীমানা হলো তার হাত যে পযর্ন্ত পৌছে সেই পযর্ন্ত আর তার আশা- আক্ষাংখা ও বিপদ-আপদের সীমানা তার চক্ষু ও খিয়াল যেই পযর্ন্ত বিস্তৃত সেইঅনুরূপ যে ব্যক্তি অন্তর চক্ষু ও অন্তর দৃষ্টিতে অন্ধ নয় সে অবশ্যই দেখতে ও বুঝতে পারবে যে ইবাদত, আল্লাহর উপর ভরসা, আল্লাহর একাত্ববাদ এবং আল্লাহর কাছে পযর্ন্ত প্রসারিত।


