দ্বিতীয় কালিমা

7. Page

দ্বিতীয় কালিমা

بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَٰنِ الرَّحِيمِ

(الَّذِينَ يُؤْمِنُونَ بِالْغَيْبِ)

“যারা অদৃশ্যের উপর ঈমান আনে”[1]

তুমি যদি বুঝতে চাও যে, ঈমানের মধ্যে কত মহান নেয়ামত ও সৌভাগ্য রয়েছে এবং কত বড় প্রশান্তি ও পরিতৃপ্তি রয়েছে, তাহলে এই ছোট নাটকীয় ঘটনার দিকে দৃষ্টি দাও এবং মনোযোগ দিয়ে শোন ।

একদিন দুই ব্যক্তি ব্যাবসা বানিজ্য ও আনন্দ উপোভোগের জন্য ভ্রমনে বের হলেন। তাদের একজন ছিল অহংকারী ও দূর্ভাগা সে এক রাস্তা দিয়ে প্রবেশ করল। আর অপর জন হল আল্লাহওয়ালা ও সৌভাগ্যবান সে অন্য একটি রাস্তা দিয়ে প্রবেশ করল। তার পর উভয়ে তাদের পথ চলা শুরু করল ।

অতঃপর দাম্ভিক ব্যক্তিটি যে এক দিকে নিজ সত্তার ব্যাপারে অহমিকাপূর্ণ, স্বার্থপর অপর দিকে হতাশাবাদী - এমন একটি জনপদে প্রবেশ করেছে যেখানে -তার দৃষ্টিভঙ্গি অনুযায়ী- মন্দের শেষ নেই তার দু:খবাদী ভাবের পরিণাম স্বরূপ। অতপর এই জনপদের যেখানেই সে দৃষ্টি দিয়েছে দেখতে পেয়েছে প্রত্যেক জায়গায় অক্ষম ও দূর্দশা গ্রস্থদের, যাদের কোন উপায় নেই তারা প্রচন্ড আর্তনাদ করছে ভয়ানক অত্যাচারীর পাকড়াও ও তাদের ধ্বংসকারী কাজ কর্ম থেকে। আর যেখানেই সে ঘুরে বেড়িয়েছে অনরূপ বেদনাদায়ক শোকার্ত অবস্থা দেখতে পেয়েছে। যেন সমগ্র শহরে শোকের মাতম চলছে । এই তিমিরাচ্ছন্ন যন্ত্রনাদায়ক অবস্থা অনুভব না করার জন্য নেশাগ্রস্থ হওয়া ছাড়া সে আর কোন পথ খুজে পায়নি। কেননা সকল কিছুই তার জন্য প্রকাশিত হচ্ছিল তার শত্রæ এবং অপরিচিত হিসেবে। অনুরূপ ভাবে সে প্রত্যেক জায়গায় দেখছে ভীতিকর কফিন সমূহ এবং ইয়াতিমদের যারা প্রচন্ডভাবে হতাশার কান্না করছে। ফলে সে প্রচন্ড মানুষিক যন্ত্রনা পেতে

লাগল।

8. Page

আর অপরজন আল্লাহওয়ালা আল্লাহর ইবাদতকারী , সত্যের আহবানকারী, তিনি ছিলেন উত্তম চরিত্রের অধিকারী। তিনি একটি চমৎকার সুন্দর পবিত্র জনপদে প্রবেশ করেছেন -তার দৃষ্টি অনুযায়ী- এই ভাল লোকটি যেখানেই প্রবেশ করছে সেখানেই সে আনন্দময় জাঁকজমকপূর্ণ পরিবেশ দেখতে পেয়েছে। এব সকল দিক থেকেই তার সামনে প্রকাশিত হয়েছে আনন্দ উৎসব এবং গভির ধ্যান ও চরম আনন্দের যিক্রের মজলিশ। সকল মানুষ তার জন্য বন্ধু ও আত্মীয় হিসাবে গন্য হয়েছে । আর শহরের সকল প্রান্তে দেখতে পাচ্ছে উৎসব অনুষ্টান, যুদ্ধ ফিরত সেনাবাহিনীর মধ্যে বাড়ী যাওয়ার অনন্দ উল্লাস এবং প্রশংসার শ্লোগান উচ্চারিত হচ্ছিল। সে আরো শুনতে পাচ্ছিল সেনাবাহিনীতে যোগদান অনুষ্ঠানে আকাশে বাতাসে তাকবীর ও তাহলীল (লা ইলাহা ইল্লাল্লাহর জয়ধ্বনি) ও দামামর আওয়াজ । হতভাগা প্রথম ব্যক্তিটি ছিল নিজের কষ্ট ও সাধারন মানুষের কষ্টে জর্জরিত হতভাগ্য। আর দ্বিতীয় ব্যক্তির ছিল নিজের আনন্দ ও সাধারন লোকের আনন্দে আনন্দিত সে একটি লাভ জনক ব্যাবসা করল এবং আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করল। অত:পর সে ভ্রমন থেকে ফিরে আসল এবং হঠাৎ করে ঐ অপর লোকের সাথে দেখাহল এবং তার অবস্থা বুঝতে পারল তখন তাকে বলল তুমি অপ্রকৃতিস্থ হয়েগেছ এবং তোমার ভিতরে যে বীভৎস অবস্থা তা যেন তোমার বাহিরে প্রকাশ হতে শুরু করেছে । এমন কি তুমি হাসিকে কান্না মনে করেছিল এবং সেনাবাহিনীর ছাড় পত্রকে লুটের মাল মনে করেছিলে। তুমি সঠিক পথে ফিরে আস এবং তোমার অন্তরকে পবিত্র কর যাতে করে তোমার চক্ষু থেকে অশুভ পর্দা দূর হয়, ফলে তুমি বাস্তবকে অনুধাবন ও অবোলকন করতে সক্ষম হও।

তোমর কল্পনা তোমাকে যে চিত্র দেখিয়েছে তা এ বিশ্বে সম্ভব নয় যেখানে রয়েছে উন্নতি প্রবৃদ্ধি ও পরিপূর্ণতায় ভরপুর। অনুরূপ ভাবে এই বিশ্বের মালিকও এই ধরণের নয় বরং অনেক গুণে গুণান্নিত তিনি হলেন অসম্ভব ন্যায়পরায়ন, দয়াবান , ক্ষমাশীল, প্রজাদেরর রক্ষাকারী,শক্তিশালী ও তিনি তার নিয়ম নীতিতে গুরুত্বদানকারী ও সহানুভুতিশীল ।


9. Page

এর পর ঐ দূর্ভাগালোকটি সঠিক ও সরল পথে ফিরে আসল অত:পর অনুশোচনা করল এবং বলল আমি মদ ও নেশার ভিতরে মজে ছিলাম । আল্লাহ তোমার উপর সন্তুষ্ট হন তুমি আমাকে ঐ জাহান্নামী অবস্থা থেকে বাঁচিয়েছ।

 সুতরাং হে নফস, জেনে রাখ প্রথম লোকটি হল কাফের অথবা ফাসেক গাফেল, তার দৃষ্টিতে এই দুনিয়া হলো কষ্টের জায়গা আর প্রত্যেক প্রাণশীল প্রাণী এখানে ইয়াতিম তারা বিচ্ছিন্ন ও বিলুপ্তির আঘাতে কাঁদছে।

আর মানুষ ও প্রাণীকুল তারা হল মুক্ত ও পথহারা সৃষ্টি, মৃত্যুর থাবায় তারা ক্ষত বিক্ষত। পাহাড় ও সমুদ্রের মত বিশাল বিশাল সৃষ্টিকুল তাদের অবস্থান হল প্রাণহীন ভীতিকর কফিনের মত । এই সবকিছু তার কুফরী ও পথভ্রষ্ঠাতার ফল আর এগুলো তাকে মানুষিক ভাবে কষ্ট দিচ্ছে।

কিন্তু অপর ব্যক্তি যে ঈমানদার মহান স্রষ্টাকে জানে এবং সত্য বলে বিশ্বাস করে। তার দৃষ্টিতে এই দুনিয়া হল রহমানের যিকির এর জায়গা, মানুষ ও প্রাণীকুলের শিক্ষা ও প্রশিক্ষণের ময়দান, জ্বিন ও মানব জাতির পরীক্ষার স্থান।

আর মানুষ ও প্রাণীকুলের মৃত্যু হল দুনিয়া থেকে যাওয়ার ছাড়পত্র,যারা দুনিয়ায় তাদের কাজ সমাপ্তি করেছে তারা ধ্বংসশীল এই পৃথিবী থেকে আনন্দ চিত্তে চিরস্থায়ী দুনিয়ার দিকে স্থানান্তরিত হচ্ছে যেন নতুন কর্মচারীদের জন্য জায়গা করেদিতে পারে । যাতে করে তারা আসতে পারে ও কাজ করতে পারে।

মানুষ ও প্রাণীকুলের নবজাতক হল সেনাবাহিনীেিত যোগদানের জন্য আসা, অ¯্র গ্রহন করা এবং কাজে যোগদান করা আর সকল প্রাণশীল প্রাণী সৈনিক, কর্মচারী আনন্দিত,আদিষ্ট,ন্যায় সম্মত ও সন্তুষ্টচিত্ত।

আর এখানে সকল আওয়াজের প্রতিধ্বনি হল হয় কাজের শুরুতে যিকির ও তাছবীহ অথবা কাজের শেষে শুকুর এবং আনন্দ অথবা কাজের উচ্ছলতা থেকে সৃষ্ট সআর অস্তিত্বশীল সকল কিছু এখানে মুমিনদের দৃষ্টিতে আনন্দদায়ক খাদেম। প্রীয় কর্মচারী এবং তাদের মহান মালিকের ও দয়াবান মনিবের মর্যাদার চমৎকার বইসমূহ ুরেলা আওয়াজ।


10. Page

এ ছাড়াও রয়েছে মর্যাদার উচ্চমান সম্পন্ন সুক্ষাতিসুক্ষ মজাদার বিষয়ের বর্ণনা যা তার ঈমানের মাধ্যমে প্রকাশ পায় ।

সুতরাং ঈমান অর্থগত ভাবে বীজ বহন করে জান্নাতের তুবা গাছের। আর কুফর অভ্যন্তরীন ভাবে জাহান্নামের যাক্কুম ফলের বীজ বহন করে ।

সুতরাং শান্তি ও নিরাপত্তা কেবল মাত্র ইসলাম ও ঈমানের মধ্যে রয়েছে অন্য কিছুতে নেই । তাই বিষয়টি যখন এরকমই তখন সর্বদা আমাদের একথা বলা কর্ “পরিপূর্ণ ঈমান এবং ইসলামকে দ্বীন হিসেবে পেয়ে আল্লাহর প্রশংসা করছি”