নবম কালিমা
NAVIGATION
47. Page
নবম কালিমা
بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَٰنِ الرَّحِيمِ
فَسُبْحَانَ اللَّهِ حِينَ تُمْسُونَ وَحِينَ تُصْبِحُون * وَلَهُ الْحَمْدُ فِي السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ وَعَشِيًّا وَحِينَ تُظْهِرُونَ
“সুতরাং সকাল ও সন্ধ্যায় তোমরা আল্লাহর পবিত্রতা ঘোষণা কর । সমস্ত প্রশংসা তাঁর জন্য এই মহা বিশ্বে ও পৃথিবীতে আর পবিত্রতা ঘোষণা কর অপরাহ্ণে ও যুহরের সময় ”। সূরা রূম আয়াত ১৭-হে ভাই তুমি আমাকে জিজ্ঞাসা করেছ সালাতকে পাঁচটি নির্ধারিত সময়ের জন্য খাস করার হিকমত সম্পর্কে। আমি অসংখ্য হিকমতের মধ্য থেকে মাত্র একটি উল্লেখ করব।
নিশ্চয়ই প্রত্যেক সালতের সময়টা হল দিনের গুরূত্বপূর্ণ পরিবর্তনের শুরু । এক মহান ইলাহী কাজ বিন্যাসের আয়না। এবং ঐ কাজ বিন্যাসের প্রতিটা মুহুর্ত খোদায়ী অনুগ্রহের প্রাতিবিম্ব। এ কারনে নামাজ ঐ সময় গুলোতে ফরজ করা হয়েছে যাতে রয়েছে মহিয়ান ক্ষমতাবান রবের জন্য অসংখ্য তাছবীহ, পবিত্রতা ও বড়ত্তের বর্ণনা এবং দুই সময়ের মাঝে এত্রিত ও সিমাহীন নেয়ামতের প্রতি রয়েছে কৃতজ্ঞতা ও প্রশংসা।
প্রথম পয়েন্ট
নিশ্চয়ই সালাতের অর্থ হল আল্লাহ তায়ালার বড়ত্ব ,পবিত্রতা ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ অর্থাৎ কথা ও কাজে তার সম্মানের মহাপবিত্রতা হল সুবহান আল্লাহ আর আল্লাহু আকবার হল উচ্চারনে ও আমলে তার পূর্ণতার সম্মান আর আলহামদুলিল্লাহ হল অন্তর ,জ্বিহবা,ও শরীরে তার সৌন্দর্যের শুকরিয়া।
সুতরাং তাসবীহ, তাকবীর, ও হামদ নামাজের প্রাণ এই কারনে নামাজের সকল নড়া চড়া ও যিকেরে এই তিনটি জিনিস পাওয়া যায়। আর এই কারনেই সালাতের পর পরই এই কালিমাগুলো তেত্রিশবার পড়া হয় নামাজের মর্মার্থের গুরুত্ব ও ভারীত্ব বুঝানোর জন্য । ফলে এই সংক্ষিপ্ত সার নির্যাসের উপর তাগিদ দেয়া হয়েছে।
১৮
48. Page
দ্বিতীয় পয়েন্ট
ইবাদতের অর্থ হল বান্দা তার ইবাদতের ত্রুটি বিচ্ছুতি মুখাপেক্ষীতা ও অক্ষমতা অনুধাবন করে মহীয়ান ইলাহের দরবারে তার পূর্ণাঙ্গ অভিভাবকত্ব, ক্ষমতা, অমুখাপেক্ষীতা ও রহমতের সামনে সিজদাবনত হওয়া।
অনুরূপভাবে লালন পালনে রুবুবীয়াতের সাম্রারাজ্যদাবী করে দাসত্ব ও আনুগত্যের । কেননা রুবুবীয়াতের পবিত্রতা ও পরিচ্ছন্নতা জরুরী মনে করে বান্দা তার ত্রুটি বিচ্ছুতি অনুধাবন ও ক্ষমা চাওয়ার মাধ্যমে তার রবকে পবিত্র ও সকল ত্রুটি বিচ্ছুতি থেকে মুক্ত ঘোষনা করবে। ছুবহানাল্লাহ তাসবীহ পাঠ করার মাধ্যমে পথ ভ্রষ্টদের ভ্রান্ত আকিদা বিশ্বাস থেকে তাকে পবিত্র ও উচু ঘোষনা করবে।
অনুরূপভাবে রুবুবীয়াতের পরিপূর্ণ ক্ষমতা দাবী করে বান্দা তার রবের নিকট আশ্রয় নিবে ও তার উপর ভরসা করবে। তার নিজের দূর্বলতা ও অন্যান্য প্রাণীকুলের অক্ষমতা অনুধাবন করে অমুখাপেক্ষী শক্তির মহা নিদর্শনের সামনে “আল্লাহু আকবার বলে বিনয়ের সাথে রুকু করবে।
অনুরূপভাবে রুবুবীয়াতের রহমানের সীমাহীন ভান্ডার দাবী করে বান্দা তার প্রার্থনা ও চাওয়ার মাধ্যমে তার সমস্ত প্রয়োজন ও অন্যান্য প্রাণীকুলের প্রয়োজন প্রকাশ করবে। এবং তার রবের নেয়ামত ও অনুগ্রহ স্বীকার করবে প্রশংসা ও কৃতজ্ঞতার সাথে আলহামদুলিল্লাহ বলে।
অর্থাৎ সালাতের কার্যাবলী ও তাছবীহ সমূহ এই অর্থই প্রকাশ করে। এবং আল্লাহ তায়ালার পক্ষ থেকে ঐ অর্থেই সালাত কে ফরজ করা হয়েছে।
তৃতীয় পয়েন্ট
যে ভাবে মানুষ হল এই বিশাল পৃথিবীর একটি ক্ষুদ্রতম প্রতিচ্ছবি অনুরূপভাবে সূরা ফাতিহা হল সমস্ত কুরআনের একটি আলোকিত প্রতিচ্ছবি। তাই সালাত অনুরূপভাবে সমস্ত ইবাদতের একটি পূর্ণাঙ্গ নূরানী তালিকা এবং পবিত্র মানচিত্র যা সকল প্রকার সৃষ্টিকুলের ইবাদতের ধরনের প্রতি ইশারা করছে।
চর্তুথ পয়েন্ট
49. Page
:যে ভাবে সাপ্তাহিক ঘড়ির কাটা প্রতিটা সেকেন্ড,মিনিট, ঘন্টা ও দিন গননা করে যার একটি অপরটির অনুরূপ হয় এবং প্রত্যেকটি অন্যটির সাদৃশ্যপূর্ণ হয়। এবং প্রত্যেকটি অপরটির হুকুম গ্রহন করে। অনুরূপভাবে রাত দিন একের পর এক আসা, যা এই বিশ্বজাহানের সেকেন্ডের কাটার মত যে বিশ্বজাহান আল্লাহর বিশাল ঘড়ির ন্যায়। এ বিশ্বের বৎসর সমূহ মিনিট গণনা করে আর মানুষের জীবনের ধাপগুলো ঘন্টা গণনা করে আর পৃথিবীর প্রদক্ষিণ দিন গণনা করে এগুলোও একটি অপরটির অনুরূপ হয়, সাদৃশ্যপূর্ণ হয়, এবং প্রত্যেকটি অপরটির স্থলাভিষিক্ত হয়।আর একটি অপরটির কথা স্বরণ করিয়ে দেয়।
যেমনঃ
ফজরের সময় : থেকে সূর্য উদয় পর্যন্ত যা বসন্তের প্রারম্ভিক সময়ের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ্য ও তার কথা স্বরণ করিয়ে দেয় মায়ের গর্ভে মানুষের প্রথম অস্তিত্বের মূহুর্তকে এবং ছয় দিনে আসমান জমিন সৃষ্টির প্রথম দিনের কথা আর তাতে ইলাহী যে ব্যবস্থাপনা রয়েছে সে বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষন করছে ।
:যোহরের সময়: যা গ্রীষ্মকালের মধ্যভাগের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ আর ঐ দিকেই এবং পরিপূর্ণ যৌবনের দিকে ও দুনিয়ার জীবনে মানুষ সৃষ্টির মধ্যভাগের দিকে ইঙ্গিত করছে। আর তাতে আল্লাহর নেয়ামতের যে প্রবাহ ও রহমতের যে ঝলক তা স্বরণ করিয়ে দেয় ।
আসরের সময় :যা শরৎ কালে পূর্ণ বয়স্কতার ও শেষ যামানার শেষ নবীর সুখ সমৃদ্ধির যুগের সাথে সাদৃশ্য পূণ্য । আর তাতে ইলাহী ব্যবস্থপনা ও রহমানী পুরুষ্কারের কথা স্বরণ করিয়ে দেয়।
মাগরিবের সময় :যা মানুষকে সর্তক করছে ও জাগিয়ে তুলছে গাফলতির ঘুম থেকে। শরৎকালের শেষে অসংখ্য সৃষ্টিকুলের তীরধানের কথা, মানুষের মৃত্যু দুনিয়ার ধ্বংস ও কেয়ামতের শুরুর কথা স্বরণ করিয়ে দেয়ার মাধ্যমে মহীয়ানের ক্ষমতার ঝলক বুঝিয়ে দিচ্ছে ।
:
50. Page
এশার সময়: ইহা মহাপরাক্রমশালী আল্লাহর ক্ষমতার বহিঃপ্রকাশের ঘোষণা দিচ্ছে আলোর জগতকে কালা চাদরে ঢেকে অন্ধকার জগতের আচ্ছাদন কে স্বরণ করিয়ে দেয়ার মাধ্যমে, মৃত ভুমিকে সাদা চাদরে ঢেকে শীতের আচ্ছাদন কে স্বরণ করিয়ে দেয়ার মাধ্যমে এবং মৃত ব্যক্তির অবশিষ্ট চিণ্হ মুছে যাওয়া ও তাকে ভূলে যাওয়ার কথা স্বরণ করিয়ে দেয়ার মাধ্যমে এবং এ পরিক্ষাগার নামক দুনিয়ার চিরতরে বন্ধ হয়ে যাওয়ার কথা স্বরণ করিয়ে দেয়ার মাধ্যমে।
রাতের সময়: রহমানের অনুগ্রহের প্রতি মানবাত্বার প্রয়োজনের কথা স্বরণ করিয়ে দিচ্ছে বারযাখের জগৎ, কবর ও শীতের উল্লেখের মাধ্যমে
রাতের তাহজ্জুতের সময়: কবর ও বারযাখের অন্ধকারে ইহা কতই না প্রয়োজনীয় আলো তা স্বরণ করিয়ে দিচ্ছে। আর ঘোষণা করছে ঐ সকল পরিবর্তনের মধ্যে রয়েছে প্রকৃত নেয়ামতদাতার প্রশংসা ও গুণকীর্তনের প্রয়োজনীয়তা তার সীমাহীন নেয়ামতের উল্লেখ করার মাধ্যমে।
দ্বিতীয় প্রভাত: হাশরের সকালের কথা স্বরণ করিয়াদিচ্ছে । হ্যা, রাতের পর যেমন সকাল আসা শীতের পরে যেমন বসন্ত আসা নিশ্চিত , প্রয়োজন এবং বুদ্ধি সম্মত তেমনি হাশরের পর নতুন প্রভাত বরযকের পর বসন্ত আসা নিশ্চিত, প্রয়োজন এবং বুদ্ধি সম্মত।
সুতরাং ঐ পাঁচ ওয়াক্ত সময় যেমন প্রত্যেক গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের মূল অনুরূপভাবে তা স্বরন করিয়ে দিচ্ছে মহা পরিবর্তনের কথা। অনুরূপভাবে প্রতিদিন মহাপরাক্রমশালী অমুখাপেক্ষী স্বত্তার মহা কতৃত্বের ক্ষমতার দিকে ইঙ্গিত করর মাধ্যমে তা মনে করিয়ে দিচ্ছে আল্লাহর শক্তিশালী মু’জিযা, কালের, যুগের ,বৎসরের উপঢেীকন ।
সুতরাং ফরজ নামাজ সমূহ যা প্রকৃত অর্থে মৌলিক স্বভাব জাত কর্ম এবং ইবাদতের মূল ও নিরেট দ্বীনি কার্জ।তা এই সকল সময়ের সাথে খুবই সামাঞ্জস্য পূর্ণ।
পঞ্চম পয়েন্ট নিশ্চয় সৃষ্টিগত ভাবে মানুষ খুবই দূর্বল অথচ প্রত্যেক জিনিস তাকে কষ্ট দেয় বিরক্ত করে ও প্রভাব বিস্তার করে। সে খুবই অক্ষম অথচ তার বিপদ আপদ শত্রু অনেক
51. Page
বেশী। সে খুব মুখাপেক্ষী অথচ তার প্রয়োজনের শেষ নেই।সে অলস ও শক্তিহীন অথচ তার জীবনের বোঝা অনেক ভারী। মানুষত্ব তাকে দুনিয়ার সাথে সম্পৃক্ত করেছে প্রীয়জনদের চলে যাওয়া তাদের সাথে আনন্দিত হওয়া ও কষ্ট পাওয়া, বিরক্ত হওয়া এগুলো সব সময়, সর্বক্ষণ ঘটছে । তার বুদ্ধি তাকে উচ্চাংখায় ও স্থায়ী পরিণতির দিকে দেখিয়ে দেয় অথচ তার সক্ষমতা ও জীবন সীমাবদ্ধ,তার শক্তি দূর্বল ও ধৈর্য কম।
অতএব আত্মার এটাই অবস্থা, এবং খুব স্বভাবিক ভাবে বুঝা যায় যে কত জরুরী তার নিজেকে মহা পরক্রমশালী, দয়াময়, মহিমাময় এর দরবারে পেশ করা ফজরের সময় নামাজ ও অনুনয় বিনয়ের মাধ্যমে তার দরজায় আঘাত করা।তার কাছে শক্তি ও তাওফিক কামনা করা। আর তার উপর ঐ ফজরের সময়ের পরেই দিনের আলোয় যে সকল বিপদ আপদ ও কাজ কর্ম তার ঘাড়ে পতিত হয় তা বহনের জন্য এটা কতইনা প্রয়োজনীয় ভরসার কেন্দ্র।
জোহরের সময়: এটা দিনের পরিপূর্ণ সময় এবং সূর্য অস্তমিত হওয়ার শুরুর অবস্থা । দৈনন্দি কাজের পূর্ণতার মুহুর্ত । বিরক্তি ও বাস্তবতার একঘেয়েমী থেকে বেঁচে থাকার সংক্ষিপ্ত বিরতির সময়। রূহের বিশ্রাম চাওয়ার সময় এবং গাফলতি থেকে ক্ষণস্থায়ী দুনিয়ার পেরেশানী থেকে এবং কষ্টকর ভারী ও ধ্বংসশীল জিনিস থেকে পরিত্রানের জন্য একটা নিঃস্বাস ফেলার সময় । এটা হল ইলাহী পুরুষ্কার প্রকাশের মুহুর্ত। জোহরের সালাত আদায়ের অর্থ হল মানব আত্মার সাহায্য প্রার্থনা, প্রকৃত নিয়ামত দানকারীর নেয়ামতের উপর কৃতজ্ঞতা ও প্রশংসা প্রকাশ করা। এই সংকীর্ণতা ও গাফলতি থেকে বেঁচে থাকা এবং এই সকল অর্থহীন ও অস্থায়ী জিনিস থেকে বের হওয়ার পর হাত জোড় করে মহান আল্লাহর দরবারে আকুতি করা। তার বড়ত্ব ও মর্যাদার সামনে রুকূর মাধ্যমে তার অক্ষমতা প্রকাশ করা । তার চিরস্থায়ী পরিপূর্ণতা এবং অতুলনীয় সৌন্দর্যের সামনে সিজদার মাধ্যমে তার বিশুদ্ধতা , ভালবাসা ও বিলিনতা ঘোষনা করা । আমরা বলি এই অর্থে জোহরের সালাত আদয়টা যে কত সুন্দর কত প্রয়োজনীয় এবং কত সামঞ্জস্যপূর্ণ যে মানুষ এটা বুঝলনা সে আসলে মানুষ নয়।
52. Page
আর আসরের সময়:তা অবহিত করছে শেষ যামানার বেদনাদায়ক পর্বের চিন্তিত শোকাহত, বয়োবৃদ্ধ শরৎ কালের কথা। এটা হল দৈনন্দিন কাজের শেষ সময় । ইলাহী বড় বড় নেয়ামত গুচ্ছের গঠিত হওয়ার সময় যে নেয়ামত গুলো ঐ দিন মানুষ ভোগ করে থাকে । যেমন সুস্থতা, নিরাপত্তা ও কল্যাণ কর কাজ ইত্যাদি। এটা এমন সময় যা প্রকান্ড সূর্যের অস্তমিত হওয়ার দিকে ঝুকার ইশারার মাধ্যমে ঘোষনা করছে যে, মানুষ বিশেষ কাজ ওয়ালা মেহমান এবং প্রত্যেক জিনিসই অস্থায়ী ধ্বংসশীল।
আর এখান থেকেই মানুষের রূহ যাকে স্থায়ী করে সৃষ্টি করা হয়েছে যা স্থায়ীত্বের অনুসন্ধান করছে যা দাসত্বের স্থরের ইহসানকে পছন্দ করে এবং বিচ্ছিন্নতার কষ্ট অনুধাবন করে । তখন অজু করে নামাজ আদায়ের জন্য দাড়ায় চিরস্থায়ী চিরঞ্জীব, অমুখাপেক্ষী ও অসীম সত্বার দরবারে প্রার্থনা পেশ করে, তার সীমাহীন নেয়ামতের প্রশংসা ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে তার অফুরান্ত রহমতের দিকে আশ্রয় চেয়ে প্রভুত্বের মর্যাদার সামনে বিনয়াবনত হয়ে রুকুতে যায়। চিরস্থায়ী ইলাহিয়াতের নিকট বিলীন হতে সিজদাবনত হয় ফলে রূহ প্রকৃত প্রশান্তি ও সান্তনা পায় মহান আল্লাহর বড়ত্বের সামনে পরিপূর্ণ দাসত্ব প্রকাশের মাধ্যমে । সুতরাং আসরের নামাজ আদায়ে এই সকল কিছুকে সামিল করে । এখান থেকে যে প্রকৃত মানুষ সে বুঝতে পারবে যে কিভাবে এটা একটি মহান কাজ।কিভাবে এটা একটি প্রকৃত খেদমাত। ইহা আদায় করা কিভাবে যেন তা প্রকৃতির ঋণ পরিশোধের ন্যায় বরং তা চুড়ান্ত সৌন্দযের ক্ষেত্রে মহা সফলতার ন্যায় ।
মাগরিবের সময়:তা শীতের আগমন ও সুন্দর, কোমল গ্রীষ্ম ও শরৎকালের শোকাহত বিদায়ের বার্তা জানাচ্ছে । অনুরূপ ভাবে তা স্বরণ করিয়ে দিচ্ছে মৃত্যুর পর মানুষের কবরে প্রবেশের সময় এবং প্রিয়জনদের সাথে বেদনাদায়ক বিচ্ছেদের কথা । অনুরূপ ভাবে স্বরণ করিয়ে দিচ্ছে সেই সময়ের কথা যখন দুনিয়ার সকল অধিবাসী মৃত্যুর মাধ্যমে আখেরাতের জগতে প্রস্থান করবে । আরো স্বরণ করিয়ে দিচ্ছে এই দুনিয়া নামক পরীক্ষাগারের বাতি চিরস্থায়ী ভাবে বন্ধ হয়ে যাওয়ার সময়কে । এটা এমন
53. Page
সময় যখন তারা খুব জোরাল ভাবে জাগ্রত হয় তারা এমন প্রিয় জিনিষকে পছন্দ করে যা সূর্য হেলার সময় অস্তমিত হয় আল্লাহর দাসত্বের মর্যাদায় ।
সুতরাং মানুষের রূহ হল এমন দর্পন যার স্বভাব জাত আগ্রহ হল স্থায়ী সৌন্দর্যের প্রতি । এই সময়ই সে মাগরিবের নামাযের অভিমুখী হয় । আর চেহারাকে চিরস্থায়ী চির অম্লান মহান আরশের দিকে ফিরায় । এবং সেই মহান সত্বার দিকে ফিরায় যিনি এই বিশাল পৃথিবীর কাজকর্ম পরিচালনা , পরিবর্তন ও পরিবর্ধন করে থাকেন । সকল ধ্বংসশীল জিনিষের উপর ” আল্লাহই মহান ”একথা বলে সকল কাজকর্ম থেকে নিজেকে বিরত রেখে।এক হাতকে আরেক হাতের উপর রেখে চিরস্থায়ী চিরঞ্জীব মাওলার সামনে দাড়ায়। আলহামদুলিল্লাহ বলে তাঁর প্রশংসা ও গুণ কীর্তন করে তাঁর কামালিয়াতের যাতে কোন ত্রুটি বিচ্ছুতি নেই তার অতুলনীয় সৌন্দর্যের উপর , তাঁর সীমাহীন রহমতের উপর । এর মাধ্যমে সে তাঁর সাহায্য কামনা করে । সে তার দাসত্ব প্রকাশ করে
(إِيَّاكَ نَعْبُدُ وَإِيَّاكَ نَسْتَعِينُ) ”একমাত্র আমরা তোমারই ইবাদাত করি তোমারই নিকট সাহায্য চাই ” এ কথা বলে তাঁর প্রভূত্বের সামনে, তাঁর ইলাহিয়াতের সামনে যাতে কোন অংশিদারিত্ব নেই । তাঁর সাম্রারাজ্যের সামনে যাতে কোন মন্ত্রীপরিষদ নেই । অতঃপর রূকু করে তার সীমাহীন শক্তি,অসীম ক্ষমতা ও অতুলনীয় শ্রেষ্টত্বের সামনে তার দূর্বলতা ,অক্ষমতা,মুখাপেক্ষীতা ও বশ্যতা প্রকাশ করার মাধ্যমেسُبْحَانَ رَبِّيَ الأَعْلى" ” ”পবিত্রতা ঘোষনা করছি আমার মহান রবের” এই তাছবীহ উচ্চারণের মাধ্যমে । অনুরূপ ভাবে সিজদা করে তাঁর অফুরন্ত মৌলিক সৌন্দর্য, অপরিবর্তনীয় মহাপবিত্র গুণাবলী এবং অপরিবর্তনীয় চিরন্তন পূর্ণাঙ্গতার সামনে । তার ভালবাসা ও দাসত্ব একমাত্র আল্লাহর জন্য ঘোষণা করে,বিলীন ও বিমুগ্ধ হয়ে । ফলে স্থায়ী সৌন্দর্য ও অফুরন্ত করুনা খুজে পায় । সে ”সুবহানা রাব্বিয়াল আ’লা ” বলে মহান রবের মহাপবিত্রতা ও সকল ত্রুটি বিচ্ছুতি থেকে ও ধ্বংশ হওয়া থেকে মুক্ত ঘোষণা করে । অতঃপর তাশাহুদের জন্য বসে এবং সকল সৃষ্টিকুলের পক্ষ থেকে বরকতময় অভিবাদন, সমস্থ ইবাদাত, প্রশংসা ও চিরস্থায়ী সুন্দর মর্যাদাবান আল্লাহর জন্য প্রেরণ
54. Page
করে। নবী (সাঃ)এর আনুগত্য প্রকাশ করে নতুন করে তার বাইয়াত এর মাধ্যমে । বিশ্বজগতের সুন্দর ব্যবস্থাপনা প্রত্যক্ষকরে মহীয়ান সৃষ্টিকর্তার একত্ববাদের সাক্ষ্য প্রদান করে নতুন করে ঈমানের নূর পাবার আশায় বিশ্বনবী মুহাম্মাদ (সাঃ) এর রিসালতের সাক্ষ্য প্রদান করে যিনি হলেন পালনকর্তার সা¤্রজ্যের দা’য়ী , আল্লাহর সন্তুষ্টির প্রচারকারী এবং বিশ্বজহানের তাঁর নিদর্শণাবলীর ভাষ্যকার ।
সুতরাং চিন্তা কর কিভাবে মাগরিবের নামাজ আদায় একটি পাবিত্র ও সুন্দরতম দায়িত্ব যা উপরে উল্লেখিত সকল অর্থকেই শামিল করে। কতইনা সম্মানজনক আনন্দদায়ক খেদমত। কতইনা সুন্দর পবিত্র দাসত্ব।কতইনা গুরুত্বপূর্ণ বাস্তবতা । এই ক্ষনস্থায়ী দুনিয়াতে তা স্থায়ী সঙ্গি ও সবসময়ের সুখসাচ্ছন্দ ।
সুতরাং মানুষ মানুষ হতে পারে না যদি সে এগুলো না বুঝে ও অনুধাবন না কর।
ই’শার সময : এটা এমন সময় যাতে দিনের অবশিষ্ট যা আছে তাও অদৃশ্য হয়ে যায় । অনুরূপ ভাবে দিগন্ত থেকে দিনের চিন্হ ও মিটে যায় ।রাতের জগৎ বিশ্ব জগৎকে ঢেকে দেয় । এটা এমন সময় যা স্বরণ করিয়েদেয় ক্ষমতাবান প্রভূর রাব্বনী কর্তৃত্বের কথা যিনি রাত ও দিনের পারিবর্তন কারী ,সাদা চাদর কে কালো চাদওে আচ্ছাদন কারী যা পরিপূর্ণ মহাবিজ্ঞানী আল্লাহর পারিচালনার কথা স্বরণ করিয়ে দেয় যিনি চন্দ্র সূর্যের পরিচালনা কারী। অনুরূপ সবুজ শ্যমল গ্রীষ্ম কালীন আবহাওয়াকে শুভ্র বরফে আচ্ছাদিত শীতের আবহাওয়ায় পরিবর্তনের ক্ষেত্রে । অনুরূপ ভাবে মৃত ব্যক্তির কবরের অবশিষ্ট সমস্ত চিন্হ মুছে দিয়ে দুনিয়ার সাথে সমস্ত সম্পর্ক বিচ্ছেদ করে পরপারের জীবনে স্থানান্তরের ক্ষেত্রে স্বরণ করিয়ে দেয় জীবন ও মৃত্যুর মালিকের ইলাহী কর্মকান্ডের।
এটা এমন সময় যা স্বরণ করিয়ে দিচ্ছে আসমান ও জমীনের সৃষ্টিকর্তার সৈান্দর্যের ঝলক ও ক্ষমতার ব্যবহার। তুচ্ছ ধ্বংসশীল সংকীর্ণ দুনিয়ার ধ্বংসের পর আরেকটি চিরস্থায়ী প্রশস্ত বিশাল জগতের উম্মোচনের ক্ষেত্র । ইহা এমন অবস্তা যা সাব্যস্ত করে যে এই বিশ্বজগতের প্রকৃত মালিক ,পরিচালক ও মা’বুদ হলেন সেই সত্তা যিনি সকল বিষয়ে পূর্ণাঙ্গ ক্ষমতাবান , তিনি রাত্র কে দিনে রূপান্তরিত করেন , শীত কাল
55. Page
কে গ্রীষ্মে, দুনিয়াকে আখেরাতে অতি সহজে রূপান্তরিত করেন যেভাবে অতি সহজে কিতাবের পাতা উল্টানো লিখা মুছে ফেলা ও পারিবর্তন পরিবর্ধন করা যায় ।
সুতরাং মানুষের রূহ যা সীমাহীন অক্ষম ও দূর্বল । যা সীমাহীন মুখাপেক্ষী ।যা ভবিষতের ক্ষেত্রে গহীন অন্ধকারে প্রবেশ করে ।যা অসংখ্য ঘটনার ক্ষেত্রে কিংকর্তব্যবির্মঢ় হয়ে যায় । এই রূহ যখন এই অর্থে এশার সময় এশার নামাজ আদায় করে তখন সে ইব্রাহিম (আঃ)এর মত(لَاأُحِبُّ الآفِلِيْن ) বলে ”আমি অস্তমিতদের পছন্দ করিনা ”সূরা আনয়াম -৭৬। নামাজের মাধ্যমে সে অনন্ত মা’বুদের ও সার্বক্ষনিক মাহবুবের আশ্রয় প্রার্থনা করে এই ক্ষণস্থায়ী বিশ্ব ও ক্ষণস্থায়ী জীবনের মাঝে, এই অন্ধকারাচ্ছন্ন দুনিয়ার মাঝে এবং তিমীর ভবিষ্যতের ক্ষেত্রে চিরন্তন চিরস্তায়ী প্রভূর নিকট মোনাজাত করতে থাকে এবং প্রত্যক্ষ্য করে ও চাইতে থাকে রহমত পূর্ণ সম্মান , পুরস্কার ও অনুগ্রহ এবং দয়াময় রহমানের হেদায়াতের নুর । যিনি তাঁর দুনিয়ায় নুরের সামান্য একটি ঝলক দিয়েছেন । যা ভবিষ্যতকে আলোকিত করে যা প্রিয়জন ও সমস্ত অস্তিত্বশীল জিনিষের বিচ্ছেদ থেকে সৃষ্ট ক্ষতের চিকিৎসা করে । সে দুনিয়াকে সাময়িক ভাবে ভূলে যায় । অন্তরের কান্নার মাধ্যমে রহমানের দরবারে তার দুঃশ্চিন্তা ও দুরাবস্থা প্রকাশ করে ।
যে কোন কিছুর সম্ভাবনার আশা করে সে তার দাসত্বের শেষ কাজ আদায় করে মৃত্যু সদৃশ্য ঘুমে যাওয়ার পূর্বে । ফলে সে নামাজ আদায়ে দাড়ায় যাতে করে তার দৈনন্দিন আমলের খাতা বন্ধহয় উত্তম পরিসমাপ্তির মাধ্যমে । অর্থাৎ ধ্বংসশীল সকল প্রীয় বস্তুর পরিবর্তে মা’বুদ ও স্থায়ী প্রেমাষ্পদের সামনে দÐয়মান হয় এবং সকল অক্ষম জিনিষের পরিবর্তে মহান ক্ষমতাবান আল্লাহর সামনে দাড়ায় । অনুরূপ ভাবে দাড়ায় দয়াময় হেফাজত কারীর সামনে যাতে করে সকল ক্ষতিকর সৃষ্টিকুলের অনিষ্ঠ থেকে মুক্তি পেতে পারে ।অতঃপর সূরা ফাতিহা দারা সূচনা করে ।অর্থাৎ বিশ্বজাহানের প্রতিপালকের প্রশংসা ও গুণগান শুরু করে যিনি সকল প্রশংসা ও গুণগানের প্রতি নিরংকুশ ভাবে অমুখাপেক্ষী ।
56. Page
অতঃপর সে (إِيَّاكَ نَعْبُدُ) এই বণী পাঠ করে অর্থাৎ সে বিচার দিনের মালিকের যিনি চিরস্থায়ী সুলতান তাঁর সাথে সম্পৃক্ত হওয়ার মাধ্যমে এই বিশ্ব জগতের গুরুত্ব পূর্ণ কর্মকর্তা ও সম্মানিত মেহমানের স্থলাভিষিক্ত হয়েছে । তার ক্ষুদ্র অস্থিত্ব ও নিঃসঙ্গতা সত্বেও ইবাদাত ও সাহায্য প্রার্থনা করে এ কথা বলে (إِيَّاكَ نَعْبُدُ وَإِيَّاكَ نَسْتَعِينُ) ”একমাত্র আমরা তোমারই ইবাদাত করি তোমারই নিকট সাহায্য চাই ”। অতঃপর সরল সঠিক পথের হেদায়াত প্রার্থনা করে যে পথ আলোকিত যা অন্ধকারাচ্ছন্ন ভবিষ্যত কে চিরস্থায়ী সুখ সাচ্ছন্দের আলো দেখায় একথা বলার মাধ্যম (اهْدِنَا الصِّرَاطَ الْمُسْتَقِيمَ)
অতঃপর রুকু করে আল্লাহু আকবার বলে মহান আল্লাহ তা’য়ালার বড়ত্বের চিন্তা ভাবনার মাধ্যমে, একজন সৈনিকের ন্যায় সুলতানের আদেশের আনুগত্যকারী হিসাবে । ঘুমে নিমজ্জিত সকল পশু পাখি ও তরুলতা ,লুকিয়ে থাকা সকল সূর্য ও রাতের তারকা রাজী এখন মেহমানখানা স্বরূপ এই বিশ্বজগতের সেবক ও বাতিঘর।
অতএব সিজদায় সকল সৃষ্টিকুল সম্পর্কে চিন্তা ভাবনা করে । অর্থাৎ সকল যুগে দুনিয়াতে যে সকল অস্থিত্বশীল সৃষ্টি কুল রয়েছে তাদের সম্পর্কে চিন্তাভাবনা করে। সে সিজদা করে নিয়মিত সৈনিকের মত বরং পরিপূর্ণ শৃংখলার মাধ্যমে আনুগত্যশীল সৈনিকের মত আল্লাহু আকবার বলে সিজদায় নিমজ্জিত হয়। দিনের শেষে যখন দুনিয়াবী দুসত্বের কাজ (كُنْ فَيَكُنْ) ”হও অতঃপর হয়ে যায়” এই আদেশে ছেড়ে দেয়া হয় অর্থাৎ যখন হাশরের ময়দানে এদেরকে অনুরূপ অনেক সৃষ্টি কুলকে উত্তলন করা হবে শিৃংঙ্গায় ফুৎকারের মাধ্যমে । এই আদেশের মাধ্যমে সবাই জাগ্রত হবে এবং মাওলার খেদমত করার প্রস্তুতি নিয়ে দাড়াবে । অনুরূপ ভাবে এই অসহায় দূর্বল, মুখাপেক্ষী মানুষ আল্লাহু আকবার বলে স্বয়ং সম্পূর্ণ পরম করুনাময় ও সৌন্দর্যের আধার দয়াময় আল্লাহর সামনে দাড়ায় পরিপূর্ণ বিমুগ্ধ ভালবাসায়, স্থায়িত্বের আশায় পরিপূর্ণ বিলীন হয়ে এবং চির সম্মানের আশায় পরিপূর্ণ বিনয়াবনত হয়ে ।
কোন সন্দেহ নেই এখন তুমি বুঝতে পেরেছ এশার নামাজ আদায় করা যা এক প্রকার মে’রাজ তা কতইনা সুন্দর ও কমনীয়। কতইনা উচুমানের ও তৃপ্তিদায়ক।
57. Page
কতইনা প্রিয় ও মজাদার । আর কিভাবে তা প্রকৃত কাজ,খেদমাত ও দাসত্ব যা খুবই গুরত্বপূর্ণ, বোধগম্য ও সামঞ্জস্যপূর্ণ ।
সুতরাং এই পাঁচ ওয়াক্তের প্রত্যেকটি ওয়াক্তই ইশারা করছে একটি মহা পরিবর্তনের যা রব্বানী বিশাল কর্মকান্ডের নিদর্শন। ইলাহী পুরুস্কারের চিন্হ। সুতরাং ফরজ নামাজ গুলোর সময় নির্ধারণ একটি চুড়ান্ত প্রজ্ঞার পরিচয়।
হে আল্লাহ তোমার পাবিত্রতা ঘোষণা করছি তুমি যা আমাদের শিক্ষা দিয়েছ তাছাড়া আমাদের কোন জ্ঞান নেই । নিশ্চয় তুমি হলে জ্ঞানী ও প্রজ্ঞাময় ।
হে আল্লাহ দুরূদ ও সালাম পেশ করছি যাকে আপনি আপনার বান্দাদের জন্য শিক্ষক হিসাবে প্রেরণ করেছেন। যাতে করে তিনি তাদেরকে শিক্ষা দিতে পারেন যে, কিভাবে আপনার পরিচয় লাভ করা যায় এবং কিভাবে আপনার দাসত্ব করা যায়। আপনার গুণবাচক নামের ভান্ডারের পরিচয় দান কারী হিসাবে। তোমার দাসত্বের ও প্রভুত্বের সৌন্দর্যের আয়না স্বরূপ। আর দূরূদ ও সালাম বর্ষিত হোক তার পরিবারবর্গ ও সকল সাহাবীদের উপর । হে আল্লাহ আমাদের রহম করুন সকল মু’মিন পুরুষ ও মু’মিন নারীদের উপর রহম করুন । আমিন ।
TABLE OF CONTENTS
TABLE OF CONTENTS


