পঞ্চম কালিমা

18. Page

পঞ্চম কালিমা

بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَٰنِ الرَّحِيمِ

إِنَّ اللَّهَ مَعَ الَّذِينَ اتَّقَوْا وَالَّذِينَ هُمْ مُحْسِنُونَ

“নিশ্চয়ই আল্লাহ তাদের সাথে রয়েছেন যারা তাকওয়া অবলম্ব করে এবং যারা কল্যান পরায়ণ” সূরা নাহ্ল ১২৮

তুমি যদি উপলব্দি করতে চাও যে, কিভাবে কবীরা গুনাহ থেকে বেঁচে থাকা এবং নামাজ আদায় করা প্রকৃত পক্ষে একটি মানবিক কাজ ? কি ভাবে এগুলো মানুষের জম্মগত স্বভাবের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ স্বভাবগত একটি পরিণতি? তাহলে উপমামূলক ছোট একটি গল্পের দিকে দৃষ্টি দাও ও মনযোগ দিয়ে শুন।

একবার একটি যুদ্ধে যাওয়ার জন্য সৈন্যবাহিনীর একটি রেজিমেন্টে দুজন সৈন্য একসাথে ছিল তাদের একজন ছিল খুব প্রশিক্ষণ প্রাপ্ত এবং কাজের প্রতি আন্তরিক অন্যজন ছিল অপ্রশিক্ষণ প্রাপ্ত এবং আত্মপ্রেমী ।

কাজের প্রতি যে আন্তরিক ছিল সে প্রশিক্ষণ ও যুদ্ধের ব্যাপারে খুবই গুরুত্ব প্রদান করত । সে জীবন যাত্রা ও খাবার দাবারের ব্যাপারে একেবারে চিন্তা করত না । কেননা সে নিশ্চিত ভাবে বুঝতে পেরেছে যে তার খাদ্য, রসদ ও সরঞ্জামাদি সরবরাহ , তার যখন রোগ হবে তার চিকিৎসা এমন কি প্রয়োজনে তার মুখে খাবারের লোকমা তুলে দেয়া এই সব কিছুই রাষ্টের দায়িত্ব । অনুরূপ ভাবে বুঝতে পেরেছে যে, তার মূল দায়িত্ব হল সামরিক প্রশিক্ষণ ও জিহাদ । তবে রেশন ও সরঞ্জামাদি প্রস্তুতির কিছু কাজ সে করত যেমন খাবার পাকানো বাসন পত্র ধোয়া ও গোছিয়ে রাখা ইত্যাদি। যখন তাকে প্রশ্নকরা হত কি কাজ করছ? তখন সে উত্তর দিত যে রাষ্টের চাপিয়ে দেয়া কাজ করছি । এ কথা বলে না যে আমার জীবন যাত্কিন্তু অপর সৈনিকটি হল অনবিজ্ঞ,পেটুক ও লুভাতুর, ফলে সে সামরিক প্রশিক্ষণ ও যুদ্ধের ব্যাপারে গুরুত্ব প্রদান করতনা । সে বলত এ বিষয়ে আমি কি করব? এগুলো হল রাষ্টের দায়িত্ব

19. Page

সে তার জীবন যাত্রা নিয়ে সব সময় চিন্তা করত এগুলোর পিছনেই সে হাঁপাতো ,ফলে সে রেজিমেন্ট ছেড়ে দেয় এবং বাজার সদাই করার জন্য বাজারে যায়। একদিন তার প্রশিক্ষণ প্রাপ্ত সাথী বলল :

 হে আমার ভাই, তোমার চাকরি হচ্ছে সামরিক প্রশিক্ষণ এবং যুদ্ধ আর এ কারনেই তোমাকে এখানে আনা হয়েছে । সুতরাং সুলতানের উপর ভরসা কর , তিনি তোমাকে কখন ক্ষুধার্থ রাখবেন না ,এগুলো হল তার দায়িত্ব কর্তব্য ও তার কাজ , তুমি অক্ষম ও মুক্ষাপেক্ষী, যে কোন স্থানে তোমাকে আহার দেয়ার মত এমন কাউকে পেতে তুমি কিছুতেই সক্ষম হবেনা।আর এখন হল জিহাদ ও যুদ্ধে বের হবার সময় এখন যদি একাজটি না কর তাহলে তিনি তোমাকে অবাধ্য হিসেবে গণ্য করবেন এবং শাস্তি দিবেন।

হ্যাঁ আমাদের সামনে দুটি কর্তব্য সে গুলো হল :

প্রথমটি: সুলতানের কর্তব্য, সেটা হল আমাদের খাবার প্রদান করা মাঝে মাঝে তার খেদমতে আমরা কিছু কাজ করব।

দ্বিতীয়টি: আমাদের কাজ, সেটা হল প্রশিক্ষণ ও যুদ্ধ । সুলতান সুযোগ সুবিদা প্রদানের মাধ্যমে আমাদের সহযোগীতা করবেন।

সুতরাং হায়, এই অপদার্থ সৈনিকটি কতই না ভয়াভহ পরিস্থিতির সম্মুখীন হবে যদি না সে প্রশিক্ষণ প্রাপ্ত পরিশ্রমী সৈনিক হিসেবে রূপ লাভ কলে! অচিরেই বিষয়টি বুঝা যাবে।

হে আমদের অকমর্ণ্য অন্তর :

এই অশান্ত উত্তাল যুদ্ধের ময়দান হল এই দুনিয়ার গোলোযোগপূর্ণ জীবন।

আর ঐ সৈন্যবাহিনী যাকে কয়েকটি রেজিমেন্টে ভাগ করা হয়েছে সেটা হল মানবীয় সংগঠন আর ঐ রেজিমেন্ট হল আজকের যুগের ইসলামী সম্প্রদায়।

আর ঐ দুই সৈনিক হল :


:


20. Page

একজন হল পরহেযগার মুসলিম যে দ্বীনের মৌলিক বিষয় সম্পর্কে জ্ঞানী এবং সে অনুযায়ী আমলকারী। সে নফস ও শয়তানের বিরুদ্ধে যুদ্ধকরে কবীরা গুনাহ ও পাপ কর্ম থেকে বেঁচে থাকার জন্য।

আর অপর জন ফাসিক,ক্ষতিগ্রস্থ এবং জীবন যাত্রার চিন্তায় এমন ভাবে হতাশা গ্রস্থ যে শেষ পর্যন্ত প্রকৃত রিযিক দাতাকেই দোষারোপ করছে । দ্বীনের মৌলিক বিষয় গুলোকে পরিত্যাগ করে এবং জীবন যাত্রার পথেয় সংগ্রহ করতে গিয়ে যত ধরনের অপরাধ আছে সবই করে।

আর ঐ আদেশ এবং সামরিক প্রশিক্ষণ হলে ইবাদত , আর ইবাদতের প্রধান হল সালাত।

আর ঐ যুদ্ধ হল মনের কুপ্রবৃত্তি, মানুষ ও জ্বীন শয়তানের বিরুদ্ধে জিহাদ , রুহ ও অন্তরকে স্থায়ী ধ্বংস,হীন চরিত্র ও পাপাচার থেকে বাঁচিয়ে রাখা।

আর এই দুইটি কর্তব্য তার একটি হল জীবন যাপন ও খাবার-দাবারের বন্দবস্ত করা আর অপরটি হল জীবন দানকারী ও রিযিক দানকারীর প্রতি ভালবাসা ও কৃতজ্ঞ্যতা সহকারে ইবাদত করা, তার নিকট মিনতি করা, তার উপর ভরসা করা এবং তার উপর আস্থা রাখা।

এটা ঠিক যে, যিনি সৃষ্টি করেছেন ও জীবন দান করেছেন একমাত্র তিনিই তাকে বাঁচিয়ে রাখেন, তিনিই তাকে ভরণ পোষন করেন অন্য কেহ নয়। আর এটাই অমুখাপেক্ষী সত্তার সবচেয়ে বড় ও উজ্জল মুজিজা এবং অত্যান্ত চমৎকার রব্বানী প্রজ্ঞা ।

 তুমি কি তার প্রমান চাও?

দেখ, সবচেয়ে দূর্বল ও সবচেয়ে নির্বোধ প্রাণী সবচেয়ে উত্তম খাবার পাচ্ছে যেমন ফল ও গাছের ভিতরের পোকা ! অনুরুপভাবে সবচেয়ে অক্ষম ও নরম সৃষ্টি সবচেয়ে ভাল খাবার গ্রহন করছে যেমন ছোট শিশু কিশোর ।


21. Page

হ্যাঁ তোমার বুঝার জন্য যে, হালাল রিযিক অর্জন যোগ্যতা ও বাছাই এর বিষয় নয় । এটা কেবল অর্জিত হয় অক্ষমতা ও দূর্বলতার মাধ্যমে । তোমার জন্য যথেষ্ঠ যে, মাছ ও শিয়ালের,শিশু ও বন্য প্রাণী এবং বৃক্ষলতা ও প্রাণীকুলের রিযিকের মধ্যে তুলনা করা ।

সুতরাং যে ব্যক্তি তার সালাত পরিত্যাগ করে জীবন যাত্রার চিন্তায় তার উদাহরণ হল ঐ সৈনিকের মত যে তার ব্যারক ও প্রশিক্ষণ ছেড়ে দিয়ে বাজারে ভিক্ষা করছে । আর যাতে করে মানুষ অন্যের উপর বোঝা নাহয় তাই সালাত আদায়ের পরই মহান রাজ্জাকের রহমতের রান্না ঘরে রিযিকের তালাস করা খুবই উত্তম চেষ্টা ।এবং এটা হল পুরুষত্ব ও বিচক্ষনতা এবং একই সময় ইহা একটি ইবাদত।

নিশ্চয়ই মানুষের প্রকৃতি ও তার নৈতিক প্রস্তুতি প্রমাণ করে যে , নিশ্চয়ই মানুষকে তৈরী করা হয়েছে ইবাদতের জন্য । যদিও দুনিয়ার জীবনের প্রয়োজনীয় দুটি বিষয় শক্তি ও কর্মের দিক থেকে মানুয় ছোট চুড়ুই পাখির মত হতেও সক্ষম নয় । কিন্তু মানুষ তার জ্ঞান ও মুখাপেক্ষীতার মাধ্যমে আখেরাত ও আধ্যত্মিক জীবনের প্রয়োজনীয় বিষয় ইবাদত ও মিনতির দৃষ্টিকোন থেকে তাকে গননা করা হয় প্রাণীকুলের রাজা ও নেতা হিসেবে।

সুতরাং হে নাফস যদি দুনিয়ার জীবনকেই মুক্ষ্য উদ্দেশ্য বানাও এবং সব সমায় তা অর্জনের জন্য চেষ্টা প্রচেষ্টা কর তাহলে জেনে রাখ তুমি ছোট চুড়–ই পাখির থেকেও নি¤œ স্থরে অবস্থান করবে । আর যদি আখেরাতের জীবনকেই মুক্ষ্য উদ্দেশ্য বানাও এবং দুনিয়ার জীবনকে তা অর্জনের কর্মক্ষেত্র বানাও এবং মাধ্যম বানাও এবং সে অনুযায়ী কাজ করে যাও তাহলে মনে রেখ তুমি থাকবে সকল প্রাণীকুলের প্রধান হিসেবে।এবং তুমি হবে আশ্রয় প্রাপ্ত প্রার্থনাকারী বান্দা হিসেবে । এবং এই দুনিয়াতে হবে আল্লাহর সম্মানিত ও মর্যাবান মেহমান হিসেবে ।

সুতরাং তোমার সামনে দুটি পথ, যেটি ইচ্ছা গ্রহন করতে পার। আর সবচেয়ে দয়াময়ের কাছে হেদায়াত ও তাওফিক প্রার্থনা কর।