প্রথম কালিমা
NAVIGATION
1. Page
ভুমিকা
بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَٰنِ الرَّحِيمِ
এর মাধ্যমে আমরা আল্লাহর সহযোগীত চাই
সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি সমগ্র বিশ্বজাহানের প্রতি পালক আর দরূদ ও সালাম পেশ করছি আমাদের নেতা মুহাম্মাদ সাল্লালাহু আলাইহিওসাল্লামের প্রতি, তার পরিবার বর্গের প্রতি এবং তার সকল সাহাবীদের প্রতি।
হে ভাই! তুমি আমার কাছে কিছু উপদেশ বাণী চেয়েছ, এখন আমি আমাকে বলছি আমার সাথে তুমিও শুন উপদেশ স্বরূপ কয়েকটি মৌলিক বাণী এবং আটটি ছোট ছোট বর্ণনা । তোমাকে একজন সৈনিক হিসেবে গন্য করে এ উপদেশ গুলোকে সামরিক উপমা আকারে পেশ করা হল। আর উপদেশের বিষয়ে আমি মনেকরি যে, অন্য যে কারো থেকে আমি নিজে এর প্রতি বেশী মুখাপেক্ষী । অত:পর একবার আমার নফসকে আটটি কালিমা বললাম কিছুটা বিস্তারিত আকারে যেগুলো আমি কুরআনের আটটি আয়াত থেকে অবহিত হয়েছি ।
এখন এগুলো আমি আমার নফসের জন্য সাধারণের ভাষায় ও সংক্ষিপ্ত আকারে উল্লেখ করছি তাই কেউ যদি তা শুনতে চায় তাহলে সে আমার সাথে তা শুনতে পারে ।
2. Page
প্রথম কালিমা
প্রথম কালিমা হল (بِسْمِ اللَّه) বিসমিল্লাহ যা সকল কল্যাণের মূল সুতরাং আমরাও এটা দ্বারা শুরু করলাম।
হে আমার নফস! জেনে রাখ এই বরকতময় কালিমাটি শুধু ইসলামের প্রতীকই নয় সাথে সাথে সমস্ত সৃষ্টিকুলের তাদের নিজস্ব ভাষায় যিক্রও বটে। সুতরাং তুমি যদি জানতে চাও যে কিভাবে ‘বিসমিল্লাহ’ হলো একটি মহাশক্তিশালী যার সীমা নেই। তাহলে এই সংক্ষিপ্ত রূপক গল্পের দিকে দৃষ্টি দাও এবং মনযোগ দিয়ে শ্রবণ কর।
যদি কোন ব্যক্তি বেদুঈন অধ্যুষিত কোন আরব মরুভুমিতে সফর করতে চায় তাহলে তার উচিত হবে নিজেকে কোন বেদুঈন গোত্র প্রধানের সাথে সম্পৃক্ত করা এবং তার মাধ্যমে আত্মরক্ষা করা, যাতে করে মরুদস্যুদের ক্ষতি থেকে নিজেকে রক্ষা করেত পারে ও তার সকল প্রয়োজন পূরণ করতে পারে । তা নাহলে তার শত্রুদের সামনে সে অসহায় হয়ে পড়বে ও তার সীমাহীন প্রয়োজন পূরনে ব্যর্থ হবে।
ঠিক এই ধরনের সফরে দুই ব্যক্তি মরুভূমিতে বের হল। তাদের একজন হল বিনয়ী অপরজন হল অহংকারী । প্রথম জন বিনয়ী ব্যক্তি, যে কোন গোত্র প্রধানের সাথে সম্পৃক্ত হল আর অহংকারী ব্যক্তি কারো সাথে সম্পৃক্ত হলনা । ফলে প্রথম জন খুব নিরাপদে ঘুরাফেরা করতে পারল যখনই কোন ডাকাতের মুখোমুখি হলো তখন বলল আমি অমুক গোত্রের সর্দারের লোক এটা বলার সাথে সাথে ডাকাতরা তাকে ছেড়ে দিল তার কেউ কোন ক্ষতি করতে পারল না অনুরূপ ভাবে যখনই এই সর্দারের নাম নিয়ে কোন তাঁবুতে ঢুকল তখনই সবাই তাকে সম্মান দেয়া শুরু করল ।
কিন্তু দ্বিতীয় ব্যক্তি যে অহংকারী, তার পুরো সফরে সে অগনিত বিপদ আপদের সম্মুখিন হয়েছে যা বর্ণনা দিয়ে শেষ করা যাবেনা । সে তার জীবনের নিরাপত্তা নিয়ে শংকিত ও ভীত সন্ত্রস্ত হয়েছে এবং সফরে তার প্রয়োজন পূরণের জন্য ভিক্ষা চাইতে হয়েছে, ফলে লাঞ্চিত ও হীন হয়েছে ।
3. Page
সুতরাং হে দাম্ভীক নফস ! তুমি হলে সেই সফরকারী। এই দুনিয়াটা হলো সেই মরুভূমি যেখানে তোমার অক্ষমতা ও মুখাপেক্ষীতার সীমা নেই, তোমার প্রয়োজন ও শত্রুদের শেষ নেই।
অতএব বিষয়টা যখন এমনই তখন এই মরুভুমির তথা পৃথিবীর চিরস্থায়ী মালিক ও শাসনকর্তার সাথেই নিজেকে সম্পৃক্ত কর যাতে করে যে কোন ধরণের ভয়ভীতি ও সৃষ্টি জগতের নিকট ভিক্ষা চাওয়া থেকে নিজেকে মুক্ত রাখতে পার।
নিশ্চই এই কালিমাটি হল একটি বরকতময় ভান্ডার, আর তোমার সীমাহীন অক্ষমতা ও মুখাপেক্ষীতা তোমাকে আবদ্ধ করেছে এমন একটি শক্তি ও রহমতের সাথে যার কোন শেষ প্রান্ত নেই সুতরাং এই কালিমাটি মহাশক্তিশালী ও পরমকরুনাময়ের দরবারে তোমার অক্ষমতা ও মুখাপেক্ষীতাকে গ্রহনীয় সুপারিশ কারী হিসেবে বানিয়ে নেবে। ঠিক অনুরূপ এই কালিমা নিয়ে যে চলাফেরা করবে সে হল ঐ ব্যক্তির মত যে সৈন্যবাহিনীর নিয়মিত সদস্য , যে রাষ্টের নাম নিয়ে চলাফেরা করে সে কাউকে ভয় করেনা। সে রাষ্ট্র ও আইনের দোহাই দিয়ে কথা বলে সকল কাজ সম্পন্ন করে এবং সকল কিছুর সামনে দৃঢ় থাকে।
আমরা শুরুতেই বলেছিলাম সকল সৃষ্টিকুল তার নিজস্ব ভাষায় ‘বিসমিল্লাহ’ বলে আসলে কি তাই? হ্যাঁ, অবশ্যই।
আর যদি তুমি এমন কাউকে দেখ যে একা এসেছে এবং শহরের সকল আধিবাসীকে জোর করে এক জায়গায় জড় করেছে এবং তাদেরকে কাজ করতে বাধ্য করছে তাহলে তোমাকে বুঝতে হবে এই ব্যক্তি নিজের নামে বা নিজের শক্তির কারনে এই কাজ করছে না বরং সে সৈনিক, রাষ্ট্রের নামে সে কাজ করছে এবং রাজার শক্তির সাথে নিজেকে সম্পৃক্ত করেছেন। অনুরুপ প্রত্যেকটা জিনিস আল্লাহর নামে (বিসমিল্লাহ বলে)চলে এমনকি বীজ ও ছোট ছোট শস্যদানা পর্যন্ত যেন ছোট একটি অনু তার মাথার উপর বিশাল বিশাল গাছ বহন করছে এবং পাহাড়ে মত ভারী বোঝা গুলো উচু করে রেখেছে।তাই প্রত্যেক গাছই ’বিসমিল্লাহ’ বলে এবং রহমতের ভান্ডারের ফলফলাদি দ্বারা পরিপূর্ণ হয় এবং আমাদের জন্য তা পেশ করে যেন বাজারে বিক্রয়ের মেলা বসেছে।
4. Page
জগতের প্রত্যেক শস্যক্ষেত ‘বিসমিল্লাহ’ বলে এবং আল্লাহর কুদরতী রান্না ঘরের একটি হাড়ি হয়ে যায় যাতে সমাজের অসংখ্য লোকদের জন্য পর্যাপ্ত পরিমানে বিভিন্ন স্বাদের সুস্বাদু খাবার পাকানো হয়।
পৃথিবীর প্রত্যেক বরকতময় গবাদি পশু যেমন গরু, মহিষ, ভেড়া, ছাগল ‘বিসমিল্লাহ’ বলে চলে ফলে রহমতের প্রবাহে তাতে দুধের ফোঁয়ারা হয়ে যায়। অতঃপর রিযীকদাতার নামে আমাদের সামনে জীবন ধারনকারী পানির মত স্বচ্ছ ও কোমল খাবার পেশ করে।
আর গাছ পালা তরুলতা ও ঘাসের শিকড় এবং রেশমের মত নরম পাতলা শিরা বিসমিল্লাহ বলে, তখন সেই পাতলা শিকড় শক্ত পাথর ও মাটি ছিদ্রকরে তা থেকে বের হয়ে যায় আর তারা যখন আল্লাহ ও রহমানের নামে শুরু করলাম বলে তখন সকল কিছু তার অধিনস্ত করে দেয়া হয়।
হ্যাঁ, গাছের এই পাতলা শিকড় গুলো যে ভাবে খুব সহজে শক্ত পাথর ও শুকনো মাটির ভিতরে ছড়িয়ে পড়ে। মাটির উপরে যেভাবে গাছের শাখা প্রশাখা ও ফলমূল বিস্তার লাভ করে ঠিক এই ভাবে মাটির নিচেও ফলমূল ও শাখা প্রশাখা বিস্তার লাভ করে অনুরূপভাবে প্রচন্ড গরম ও তাপদাহের মাঝে গাছের সবুজ পাতলা ও নরম পাতা যেন মাসের পর মাস সিক্ত ও তরুতাজা থাকে এই সবগুলোই প্রকৃতিবাদীদের চেহারায় প্রচন্ড ভাবে চপেটাঘাত করছে আর তাদের অন্ধ চোখে আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়ে দিচ্ছে এবং বলছে তোমরা গাছের নিজস্ব শক্তি ও তাপ যাদের উপর ভিত্তি করে তোমরা বলছ সেগুলোও একজনের আদেশ ছাড়া নড়াচড়া করে না । তাইতো রেশমের মত পাতলা নরম শিরা গুলো শক্ত পাথরকে বিদীর্ণ করে দেয় যেরুপভাবে মুসা (আঃ) এর লাঠি পাথরকে বিদীর্ণ করে দিয়েছিল আল্লাহর আদেশ বাস্তব(اضْرِبْ بِعَصَاك ”হে মুসা তোমার লাঠি দ্বারা পাথরকে আঘাত কর” (সুরা বাকারা ৬০) এবং পাতলা কাগজের মত গাছের নরম পাতাগুলো পাঠ করছে যেরূপভাবে ইব্রাহিম (আঃ) এর অঙ্গ প্রত্যঙ্গ গুলো আগুনের লিলিহান শিখার দিখে তাকিয়ে পাঠ করছিল(يَا نَارُ كُونِي بَرْدًا وَسَلَامًا) ”হে আগুন তুমি ঠান্ডা ও নিরাপদ হয়ে যাও” (আম্বিয়া ৬৯শতক) মুজাদ্দিদ হিসাবে গন্য করেন।
5. Page
কেননা প্রত্যেক জিনিষই তাৎপর্যপূর্ণ ভাবে আল্লাহর নাম নিয়ে কথাবলে তাই বিসমিল্লাহ বলেই আল্লাহর নিয়ামত সমূহ অর্জন করে এবং আমাদের জন্য তা পেশ করে। অনুরূপ ভাবে আমাদের উপর কর্তব্য হল আল্লাহর নাম নিয়ে বলা, আল্লাহর নাম নিয়ে কাউকে কিছু দান করা, আল্লাহর নাম নিয়ে কোন কিছু গ্রহণ করা।
যে আল্লাহর নাম নিয়ে প্রদান করেনা আমাদের ওপর আরো কর্তব্য হলো এমন আত্মভোলা মানুষের নিকট থেকে আমরা কোন কিছু গ্রহন করবপ্রশ্ন আমরা সাধারণত এই ব্যক্তিদের কাছে মালামালের মূল্য প্রদান করি যে জিনিষপত্র আমাদের কাছে নিয়ে আসে। তাহলে জিনিষ পত্রের আসল মালিক যিনি তিনি কী মূল্য চাইবেন ?উত্তরঃ এই নেয়মত সমূহ ও মূল্যবান জিনিষ পত্রের বিনিময়ে এগুলোর আসল মালিক যিনি তিনি আমাদের কাছে যে মূল্য চাইবেন সেগুলো হল তিনটি :
(১) যিকির - (তার স্বরন)
(২) শুকুর - (কৃতজ্ঞতা)
(৩) ফিকির (চিন্তাভাবনা)
এই নেয়ামত গুলো গ্রহনের শুরুতেই বিসমিল্লাহ হল যিকির আর শেষে আলহামদুলিল্লাহ হল শুকুর আর মধ্যখানে হল ফিকির চিন্তা গবেষণা করা যে এই মূল্যবান বিস্ময়কর নিয়ামত সমুহ হল এক একক অমুখাপেক্ষী আল্লাহর শক্তির মু’জিযা এবং তার রহমতের ভান্ডারের হাদিয়া, এইগুলো অনুধাবন করাই হল ফিকির।
অনুরূপ ভাবে সুলতানের পক্ষথেকে যে লোক মূল্যবান হাদিয়া বহন করে নিয়ে আসল তার পদযুগলে চুম্বন করা আর এগুলের মূল মালিক যিনি তার ব্যাপরে অজ্ঞ থাকা হলো মারাত্মক নির্বূদ্ধিতা। নিশ্চয় আসল নিয়ামত দান কারীকে ভুলে আপাত দৃশ্যমান নিয়ামত দানকারীর প্রতি ভালবাসা ও প্রশংসা ঐটা থেকেও হাজার বার নির্বুদ্ধিতা। সুতরাং হে নফস ! যদি এ রকম নির্বোধ না হতে চাও তাহলে
6. Page
আল্লাহর নামে দান কর
আল্লাহর নামে গ্রহন কর
আল্লাহর নামে শুরু কর
আল্লাহর নামে কাজ কর
সবার উপর শান্তি বর্ষিত হোক


