সপ্তম কালিমা

30. Page

সপ্তম কালিমা

তুমি যদি অনুধাবন করতে চাও যে, কিভাবে “آمًنْتُ بِالله” (আমি আল্লার উপর ঈমান এনেছি) এবং

 “بالْيَوْمٍ الأخِر” (আখেরাতের উপর ঈমার এনেছি) এই দুইটি জিনিস এই বিশ্বজগতের অজানা রহস্য উম্মোচন কারী এবং মানব রূহের সুখ সমৃদ্দির দোয়ার খুলেদানকারী ; দুটি মূল্যবান অলৌকিক মন্ত্র যা সকল সমস্যা সমাধানে করবে। তুমি যুদি অনুধাবন করতে চাও কিভাবে মানুষ ধৈর্য ধারণের মাধ্যমে তার স্রষ্টার উপর ভরসা করে এবং তারই স্বরনাপন্ন হয় এবং তুমি যদি অনুধাবন করতে চাও কিভাবে কৃতজ্ঞার সাথে তার রিযিকদাতার নিকট দোয়া প্রার্থনা বিষের প্রতিষেধকের ন্যায় দুটি ফলপ্রসু চিকিৎসা। আর তুমি যদি বুঝতে চাও যে কিভাবে মনোযোগ দিয়ে কুরআন শ্রবণ, আল্লাহর হুকুমের আনুগত্য, নামাজ কায়েম করা এবং কবীরা গুনাহ থেকে বেঁচে থাকা আখেরাতের পাথেয় ও টিকেট স্বরূপ এবং কবরের আলো। এই টিকেট যা খুবই মূল্যবান,গুরুত্বপূর্ণ ও আলোকিত । এগুলো বুঝার জন্য তুমি নিম্নের উপমা স্বরূপ ছোট গল্পের প্রতি লক্ষ্য কর ও মনোযোগ দিয়ে শুন।

একদিন এক সৈনিক পরীক্ষা ও যুদ্ধের ময়দানে লাভ ক্ষতির বিনিময়ের সময় এক ভয়াবহ অবস্থার সম্মুখিন হয়। সে ডান ও বাম পার্শ্বে গভীর আঘাত প্রাপ্ত হয় এমতাবস্থায় তার পিছনে বিশাল আকারে সিংহ এসে দাড়াঁয় যেন এখনই তাকে খেয়ে ফেলবে। তার সামনে একটি ফাঁসির মঞ্চ স্থাপন করা হয়েছে। যাতে তার প্রিয়জনদের ফাঁসিতে ঝুলানো হচ্ছে। নিশ্চিন্ন করে দেওয়া হচ্ছে। সেই হল সবার শেষ এহিসাবে তারা তার অপেক্ষা করেছ। এরই সাথে এই অবস্থায়ই তাকে দীর্ঘ সফরে ছেড়ে দেয়া হবে।

এই অসহায় লোকটি যখন এই ভয়ানক অবস্থায় নিরাশ হয়ে চিন্তা করছিল তখই খিজির (আঃ) এর ন্যায় এক নুরানী ব্যক্তি তার ডান পাশে এস দাড়াল এবং তাকে বলল। তুমি নিরাশ হয়োনা, আমি তোমাকে দুইটি অলৌকিক জিনিস দিব এবং তা চালানোর শিক্ষাও তোমাকে দিব । যদি তুমি সঠিক ও সুন্দার ভাবে তা ব্যবহার করতে পার তাহলে ঐ সিংহটি তোমর অধিনস্থ ঘোড়ায় পরিণত হবে। এবং ঐ 


31. Page

ফাঁসির মঞ্চটি আরামদায়ক দোলনায় রূপান্তি হবে। যাতে তুমি বিনোদন ও আনন্দ উপভোগ করতে পার। আর আমি তোমাকে অনুরূপভাবে দুটি ঔষধ প্রদান করব যদি তুমি সুন্দর ভাবে তা ব্যবহার করতে পার তাহলে তোমার ঐ পচনশীল দুটি ক্ষত, দুটি সুবাসিত ফুলে পরিণত হবে যা মোহাম্মাদী গোলাপ নামক ফুলের মত কমনীয় হবে । তার উপর দূরূদ ও সালাত পেশ কারছি। আমি তোমাকে অচিরেই এমন একটি টিকেট দিব যা দিয়ে তুমি এক বছরের পথ একদিনে অতিক্রম করতে পারবে যেন তুমি উড়ছে । যদি আমার কথা বিশ্বাস না কর তাহলে একটু যাচই করে নাও । যাতে বুঝতে পার আমি সত্য বলছি।

সৈনিকটি বাস্তবে কিছুটা যাচাই করে দেখতে পেল যে, আসলেই সত্য। হ্যা,ঁ আমি এই অধম সাঈদ ও তাই মনে করি কেননা আমি নিজে কিছুটা যাচাই করে দেখতে পেয়েছি যে এটা পুরাটাই সত্য ।

অত:পর হঠাৎ ঐ সৈনিকটি শয়তানের মত ভয়ংকার, মদ্যপানকারী, ষড়যন্ত্রকারী এক ব্যক্তিকে দেখতে পেল। সে অনেক অলংকৃত ও সৌন্দর্য্য মন্ডিত হয়ে তার কাছে এসেছে। সে তার সামনে দাড়াল এবং তাকে সম্মোধন করে বলল হে বন্ধু আস একসাথে সরাব পান করি এই সুন্দরীদের দেখি এই কমনীয় গান গুলো শুনি এবং এই মজাদার খাবারগুলো ভক্ষণ করি।

প্রশ্ন: এই তুমি মুখে বিড় বিড় করে কি পড়ছ ?

উত্তর: অলৌকিক মন্ত্র।

প্রশ্নকারী: এই দূর্বোধ্য জিনিসগুলো ছেড়ে দাও আমদের নির্মল পরিচ্ছন্ন পরিবেশ কে কর্দমাক্ত করনা এবং আমাদের চরম আনন্দকে নষ্ট কর না ।

প্রশ্ন : এই তোমার হাতে এটা কি?

উত্তর: ঔষধ ।

প্রশ্নকারী: এটা ফেলে দাও, তোমার কি হল তুমি তো সুস্থ। এখন হল আনন্দ ফুর্তির সময়।




32. Page

প্রশ্নকারী: এই তোমার হাতে পাঁচটি চিহ্ন বিশিষ্ট ঐ কাগজ টি কিসের?

উত্তর: এটা একটা টিকেট এবং বরাদ্ধকৃত ভাড়ার প্রমান পত্র ।

প্রশ্নকারী: এটা ছিড়ে ফেলে দাও। এই সুন্দর বসন্তকালীন সময়ে ভ্রমনের কোন প্রয়োজন নাই। এভাবে সে তার সমস্ত ষড়যন্ত্র দিয়ে চেষ্টা করল তাকে বুঝানোর জন্য। শেষ পর্যন্ত ঐ অসহায় লোকটি ঐদিকে কিছুটা ঝোঁকে পড়েছিল।


হ্যাঁ নিশ্চিই মানুষ ধোকায় পড়ে যায় । {আমিও অনুরূপভাবে এই ধরনের ষড়যন্ত্রকারীর ধোকায় পড়ে ছিলাম }।

হঠাৎ ডানপাশ থেকে বজ্রধ্বনির ন্যায় কথা শুনতে পেলেন । বলছে সাবধান তুমি ধোঁকায় পড়বেনা । ঐ যড়যন্ত্রকারীকে বল যে, তোমার কাছে যদি কোন কৌশল থাকে তাহলে আমার পিছনে ঐ সিংহটাকে হত্যা কর আমার সামনের ফাঁসির মঞ্চটিকে তুলে ফেল এবং আমার ডান ও বাম পাশের ক্ষতগুলো চিকিৎসা করে দাও। আমার ও আমার সামনে যে সফর তার মাঝে অন্তরায় সৃষ্টিকরে দাও । তুমি যদি এগুলো করতে সক্ষম হও তাহলে আমাকে করে দেখাও। এর পর আমাকে বল “চল মজাকরি” তানাহলে নির্বোধ চুপ থাক যাতে খিযির আঃ সদৃশ আসমানী লোকটি কথা বলেন ।

সুতরাং হে আমার নফস তুমি যে যৌবনকালে হাসি তামাসা করেছে এখন ঐ হাসি তামাশার জন্য কাদঁছে। জেনে রাখ ঐ অসহায় সৈনিকটি হল তুমি অর্থাৎ মানুষ ।

 আর ঐ সিংহটি হল তার মৃত্যু ।

আর ঐ ফাসির মঞ্চ হল অবসান ও বিদায় চিহ্ন কেননা যেহেতু দিন এবং রাতের আবর্তনে আমরা প্রত্যেক বন্ধুদের বিদায় জানাই এবং তারা আমাদের থেকে অদৃশ্য হয়ে যায়।

আর ঐ ক্ষত চিহ্ন দুটির একটি হল মানবীয় সিমাহীন কষ্টদায়ক অক্ষমতা আর অপরটি হল সিমাহীন মানবীয় কষ্টদায়ক মুখাপেক্ষিতা।



33. Page

আর ঐ নির্বাসন ও ভ্রমন হল একটা দীর্ঘ পরীক্ষামূলক সফর যার পথ চলা শুরু হয় রূহের জগৎ থেকে, তারপর মায়ের গর্ভ, শৈশভ,যৌবন,পৌড়, দুনিয়া,কবর,বারযাখ, হাশর ও সিরাত ।

আর ঐ দুটি তালসাম হল আল্লাহর প্রতি ঈমান এ আখেরাতের প্রতি ঈমান।

হ্যা; ঐ পবিত্র তালসামের মাধ্যমে ’মৃত্যু’ এমন একটি অধিনস্থ ঘোড়া ও বোরাকের আকৃতি লাভ করে যা একজন মুমিন ব্যক্তিকে দুনিয়ার কারাগার থেকে জান্নাতের বাগানে ও রহমানে সামনে উপস্থিত করবে। এই কারনে একজন পরিপূর্ণ ঈমানদার মানুষ যে মৃত্যুর আসল রহস্য বুঝতে পেরেছে সে মৃত্যুকে ভালবাসবে বরং সে মৃত্যু আসার পূর্বে মৃত্যু কামনা করবে।

 অত:পর নিশ্চয়ই চিরবিদায়, চিরতরে নিঃশ্বেস, মৃত্যু, ওফাত ও সময়ের অতিক্রম যেগুলো ফাঁসির মঞ্চস্বরূপ তা ঈমানের অলৌকিকতার মাধ্যমে এমন একটি আকৃতি ধারন করবে যার মাধ্যমে সে প্রত্যক্ষ করতে ও অনুধাবন করতে পারবে মহান সৃষ্টিকর্তার মু’জিযার কারুকার্যতা তাঁর কুদরতের অনন্যতা এবং তাঁর উজ্জল , কোমল, রঙ্গিন ও চমৎকার বিভিন্ন ধরনের রহমতের ঝলক পরিপূর্ণ তৃপ্তি সহকারে।

হ্যাঁ; আয়নার পরিবর্তন ও নতুনত্ব যা সূর্যের কীরণে যে আলো রয়েছে তার প্রতিবিম্ব হয় এবং সিনেমার পর্দায় আকৃতির পরিবর্তন অবশ্যই একটি সুন্দন কমনীয় দৃশ্যের আকৃতি ধারণ করে।

আর ঐ দুটি চিকিৎসা:

তার একটি হল ধৈর্যের সাথে তায়াক্কুল করা, সৃষ্টিকর্তার কুদরতের উপর নির্ভর করা এবং তার হিকমতের উপর ভরসা করা। আসলে ব্যাপারটা কি এরকমই ?


মানুষের নিকট এর পর আর কি ভয় থাকতে পারে যে অক্ষমতার মাধ্যমে বিশ্বজাহানের রাজার উপর নির্ভর করে যিনি এই আদেশের মালিক যে “ হও তার পর হয়ে য ” (সূরা ইয়াসিন ৮২)


34. Page

যেহেতু সে বিপদের ভয়াবহতার প্রেক্ষিতে অন্তরের প্রশান্তি সহকারে তার দয়াময় রবের উপর ভরসা করে এই ব“নিশ্চয়ই আমরা আল্লাহর জন্য এবং তারই দিকে আমরা প্রত্যাবর্তন কারী ”। (সূরা বাকারা: ১৫৬)

এটা ঠিক যে আল্লাহর পরিচয় জানা ব্যক্তি আল্লাহর ভয় ও অক্ষমতার প্রকাশের মাধ্যমে পরিতৃপ্তি পায় । হ্যাঁ অবশ্যই ভয়ের মধ্যে তৃপ্তি রয়েছে। যদি এক বছরের একটি শিশুর বুদ্ধি থাকত এবং তাকে জিজ্ঞাস করা হত তোমার সবচেয়ে আনন্দদায়ক ও মজাদার মুহুর্ত কোনটি ? তাহলে সম্ভবত সে এটাই বলত যে সেটা হল সেই মুহুর্ত যখন আমি আমার অক্ষমতা ও দূর্বলতার অনুভুতিতে আমার স্নেহশীল মায়ের কোমল চপটোঘাতের ভয়ে দ্বিতীয়বার তার কোলে আশ্রয় গ্রহন করি। অথচ প্রত্যেক মায়ের স্নেহ ভালবাসা আল্লাহর রহমতের একটি ঝলক মাত্র।এই কারনে মানুষের মধ্যে যার কামালিয়াত অর্জন করেছে আর আল্লাহর সামনে অক্ষমতা প্রকাশে ও তার ভয়ের মধ্যে আনন্দ পায় স্বাদ পায় । এমনকি তারা আল্লাহর নিকট আশ্রয় চায় তাদের অক্ষমতার মাধ্যমে এবং আল্লাহর আশ্রয় চায় তাদের শক্তি সামর্থ থেকে পূর্ণাঙ্গ অব্যহতি নিয়ে । আর তারা ভয় ও অক্ষমতা কে তাদের সুপারিশকারী করে নিয়েছে।

আর অপর চিকিৎসা হল :

দয়াময় রিযিকদাতার রহমতের উপর ভরসা করে সন্তুষ্টি ও কৃতজ্ঞতা সহকারে দোওয়া ও প্রার্থনা করা। এটা কি আসলে এ রকমই ?

হ্যাঁ, কিভাবে প্রয়োজন(ইহতিয়ায) ও মুখাপেক্ষিতা(ফাকার) দয়াময় দাতার মেহমানের জন্য ভারী কষ্টদায়ক হবে? যিনি পৃথিবীর সমস্ত পৃষ্ঠ দেশকে করেছেন নেয়ামতের দস্তরখানয় এবং বসন্তকাল করেছেন ফুলের তোড়ায় আর ঐ দস্তরখানার পাশে এই তোড়াটা রেখেছেন ও তার উপর তা বিছিয়ে দিয়েছেন। বরং তার প্রয়োজন(ইহতিয়ায) ও মুখাপেক্ষিতা(ফাকার) একটি কোমল কমনীয়তার আকৃতি ধারণ করবে এবং কাঙ্খিত জিনিসের ন্যায় মুখাপেক্ষিতা বাড়ানোর জন্য কাজ করবে । এই কারনেই কামেল ব্যক্তিরা মুখাপেক্ষিতা(ফাকার) নিয়ে গর্ব করে।

35. Page

সাবধান আমার কথার অর্থ ভুল বুঝবেন না । আমার কথার উদ্দেশ্যে হল প্রয়োজন ও অভাবের অনভুতি নিয়ে আল্লাহর নিকট কাকুতি মিনতি করা। অভাব দ্বারা আমার উদ্দেশ্য এটা নয় যে সৃষ্টিকুলের নিকট হাত পাতবে।

আর ঐ টিকেট ও সনদ হল ইসলামের ফরজ সমূহ। যার প্রথম হল নামাজ এবং কবীরা গুনাহ থেকে বেঁচে থাকা।

ব্যপারটা কি আসলে এরকম?

হ্যাঁ, সকল স্বাদ আস্বাদনকারী প্রত্যাক্ষকারী ও বিশেষজ্ঞদের ঐক্যমত যে দীর্ঘ অন্ধকার ও চীরস্থায়ী সফরের পাথেয়, নিরাপত্তার অস্ত্র সস্ত্র প্রয়োজনীয় আলো ও বাহন অর্জনের একমাত্র মাধ্যম হল আল কুরআনের আদেশ বাস্তবায়ন করা ও নিষেধকৃত জিনিস থেকে দূরে থাকা। এ ছাড়া অন্য কিছু নয় ।

এ ছাড়া অন্যান্য যে জ্ঞান বিজ্ঞান, দর্শন, প্রযুক্তি শিল্প রয়েছে সেগুলো ঐ পথের একটি মুদ্রার সমানও হবেনা বরং এগুলোর কার্যকারীতা কবরের দরজায় এসে শেষ হয়ে যাবে।

সুতরাং হে আমার অলস নফস ঃ

তোমার বুদ্ধির বিভ্রাট যদি না হয় তাহলে অচিরেই বুঝতে পারবে যে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করা এবং সাতটি কবীরা গুনাহ থেকে বেঁচে থাকা কত যে সহজ হালকা ও প্রশান্তির । এগুলোর ফলাফল ও উপকার যে কত বড় ও ব্যাপক। আর ঐ শয়তান ও লোকটি যারা তোমাকে পাপাচার ও নির্লজ্জতার দিকে ফুসলাচ্ছে তাকে বল তোমার নিকট যদি এমন কোন পদ্ধতি থাকে মৃত্যুকে হত্যা করার ,চিরতরে নি:শ্বেস হওয়া কে দূরে সরিয়ে দেয়া, মানুষের নিকট থেকে অক্ষমতা ও অভাব কে উঠিয়ে নেয়া এবং কবরের দরজা কে বন্ধ করে দেয়ার । তাহলে তোমরা বল আর আমরা শুনি, তা নাহলে চুপ থাক।কেননা এই মসজিদ স্বরূপ বিশাল বিশ্বজাহানের কুরআনুল কারীম তেলাওয়াত হচ্ছে সুতরাং চল তা শুনি ও তার নুরে নুরান্নিত হই। তার হেদায়াত অনুযায়ী চলি আর এটা আমাদের জিহবার জিকির করে নেই।


36. Page

ঠিক এটাই হল সেই কালাম। এটা হক তা হকের নিকট থেকেই এসেছে। হক কথা বলে এবং গুড় রহস্য প্রকাশ করে আর নুরানী জ্ঞান বিজ্ঞান ছড়িয়ে দেয়।

হে আল্লাহ আমাদের অন্তরকে কুরআনের নূরে নুরান্নিত করে দাও ,হে আল্লাহ আমাকে তোমার মুখাপেক্ষী করার মাধ্যমে সম্পদশালী করে দাও।তোমার মুখাপেক্ষী হওয়া থেকে আমাকে বঞ্চিত করনা ।আমাদের শক্তি সামর্থ থেকে মুক্ত হয়ে তোমার দিকে ফিরছি। তোমার শক্তি সার্থের দিকে আমরা আশ্রয় প্রার্থনা করছি । আমাদেরকে তোমার উপর ভরসাকারীদের অন্তরর্ভুক্ত করে নাও । আমাদেরকে আমাদের নিজেদের উপর ছেড়ে দিওনা। তোমার হেফাজত দিয়ে আমাদের হেফাজত কর । আমাদের উপর রহম কর সকল মুমিন নারী পুরুষের উপর রহম কর।

 দূরূদ ও সালাম আমাদের নেতা মুহাম্মাদ (সাঃ)উপর যিনি আপনার বান্দা ও আপনার নবী, আপনার অন্তরঙ্গ বন্ধু । আপনার খলীল আপনার রাজত্বের সৌন্দর্য আপনার সৃষ্টির সম্রাট, আপনার অনুগগ্রহের বর্ণনা আপনার হেদায়াতের সূর্য আপনার নির্ভযোগ্য সূত্রের মুখপাত্র , আপনার রহমতের উপমা , আপনার সৃষ্টির নুর , আপনার সৃষ্টি সমূহের মর্যাদা, আপনার অসংখ্য সৃষ্টিকুলের মাঝে আপনার একাত্ববাদের প্রদ্বীপ , আপনার বস্তুজগতের রহস্য উম্মোচনকারী, আপনার রুবুবীয়াতের সাম্রাজের পথ প্রদর্শণ কারী । আপনার পছন্দনীয় জিনিসের প্রচারকারী। আপনার নামের ভান্ডারের পরিচয় দানকারী, আপনার বান্দাদের শিক্ষক আপনার আয়াতের অনুবাদকারী আপনার রুবুবিয়াতের সৌন্দর্যের আয়না আপনার সনদ প্রদান ও প্রত্যক্ষ দর্শনের মূল কেন্দ্রবিন্দু, আপনার প্রিয়, আপনার রাসূল যাকে বিশ্ববাসীর রহমত স্বরূপ প্রেরন করেছেন দূরূদ ও সালাম তার পরিবার পরিজনের প্রতি ও তাঁর সকল সাহাবীদের উপর এবং তাঁর ভ্রাতৃস্বরূপ নবী রাসূলদের উপর এবং আপনার সালেহ বান্দাদের উপর ( আমিন)