ষষ্ঠ কালিমা
NAVIGATION
22. Page
ষষ্ঠ কালিমা
بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَٰنِ الرَّحِيمِ
إِنَّ اللَّهَ اشْتَرَىٰ مِنَ الْمُؤْمِنِينَ أَنْفُسَهُمْ وَأَمْوَالَهُمْ بِأَنَّ لَهُمُ الْجَنَّةَ
“নিশ্চয়ই আল্লাহ তায়ালা মুমিনদের জান ও মাল কিনে নিয়েছেন জান্নাতের বিনেময়ে ” (সূরা তাওবা ১নিশ্চয়ই জান মাল আল্লাহর নিকট বিক্রয় করা এবং তার দাসত্ব ও সৈনিকত্ব গ্রহন করা কতই না উত্তম ব্যবসা কতই না উত্তম পদমর্যাদা ,এটা যদি তুমি বুঝতে চাও তাহলে এই উপমামূলক ছোট গল্পটা শ্রবণ করএকদিন সুলতান তার দুই প্রজা কে আলাদা আলাদা ভাবে দুইটি খামার প্রদান করলেন আমানত হিসেবে। যাতে রয়েছে কারখানার সকল যন্ত্রপাতি যেমন ঘোড়া, অস্ত্র ইত্যাদি । কিন্তু সময়টা ছিল প্রচন্ড যুদ্ধের অবস্থায়। যে কারনে কোন কিছুই তার নির্দিষ্ট স্থানে থাকতে পারছিলনা হয় বিলুপ্তি হয়ে যাচ্ছিল অথবা পরিবর্তন হয়ে যাচ্ছিল । সুলতান তার অপার করুনায় তাদের দুজনের নিকট তার দূতের মধ্যে থেকে বিশেষ সম্মানিত একজন দূতকে পাঠালেন । তিনি তাদের দুজনকে রহমতে ভরপুর সুলতানী ফরমানে সম্বোধন করে বললেন তোমরা তোমাদের নিকট আমার যে আমানত গচ্ছিত রয়েছে তা আমার নিকটে বিক্রি করে দাও । যাতে করে এগুলোক আমি তোমাদের জন্য সংরক্ষণ করে রাখতে পারি যাতে ছড়িয়ে ছিটিয়ে ধুলিকনায় পরিনত হয়ে নষ্ট না হয় । যুদ্ধ শেষ হয়ে যাওয়ার পর পূর্বের থেকে ভাল অবস্থায় তোমাদের এগুলোকে আবার ফিরিয়ে দেয়া হবে। এই আমানত গুলো যেন তোমাদের মালিকানার মতই ছিল। আর অচিরেই তোমাদেরকে এগুলোর বিনেময়ে বড় অংকের অর্থ প্রদান করব। আর কারখানার প্রত্যেক দ্রব্য ও যন্ত্রপাতি তোমরা আমার নামে ও আমার পরীক্ষাগারে ব্যবহার করবে । আর অচিরেই এগুলোর বিনিময় ও মূল্য হাজার গুন বেড়ে যাবে এবং সমস্ত লভ্যাংশ তোমাদের দুজনকেই দিব । আর যেহেতু তোমরা মুখাপেক্ষী এবং অক্ষম এই বিশাল কাজের ব্যয়ভার বহন করতে সক্ষম নয় তাই এর ব্যয়ভার এবং প্রয়োজনীয় বিষায়াদির দায়িত্ব আমিই নিব। তোমাদের দুজনকেই
23. Page
সকল মুনফা ও আয় প্রদান করবো। এবং সেনাবাহিনী থেকে বিদায়ের দিন পর্যন্ত এগুলো তোমাদের হাতেই রাখবো । এভাবে তোমরা দুজন পাচঁ স্থরে লাভের অংশ পাবে।
আর যদি আমার কাছে এগুলো বিক্রি না করো তাহলে অচিরেই এগুলো তোমাদের কাছ থেকে বিলীন হয়ে যাবে ,বিক্ষিপ্ত ধুলিকণায় রূপান্তরিত হবে যেভাবে অন্য যে কোন লোক থেকে বিলীন হয়ে যায়।এটা সুষ্পষ্ট যে কেউই তার নিকট যা রয়েছে তা হেফাজত করতে সক্ষম নয় । তোমরা খুব শীঘ্রই এই মহামূল্যবান সম্পদ থেকে বঞ্চিত হবে । নিশ্চয়ই এই সকল যন্ত্রপাতির উৎকৃষ্ট ব্যবহার ও সংরক্ষনের অভাবে তার মূল্যমাণ পরিপূর্ণ ভাবে হারাবে । এবং তোমাদের ঘাড়েই এগুলোর পরিচালনা, রক্ষনাবেক্ষণ ও ব্যয় ভার পতিত হবে। আমানতের খেয়ানতের কারনে শস্তির সম্মুখিন হবে । আর এটাই পাঁচ স্থরসম ক্ষতি ।
আর আমার কাছে বিক্রির অর্থ হল আমার সৈনিক হয়ে যাওয়া। আমার নামেই পূর্ণ ক্ষমতা ও কর্তৃত্ব চর্চা করার ফলে দুজন সাধারণ অবহেলিত বাস্তুচ্যুৎত কয়েদী হওয়ার পরিবর্তে দুজনই হবে মহান সুলতানের বিশেষ স্বাধীন পাহারাদার।
দুজনেই এই রাষ্টীয়বার্তা শুনার পর যাতে দুজনের জন্যই সম্মান রয়েছে, তাদের মধ্যে বুদ্ধিমান ও বিচক্ষণ লোকটি বলল আমি এই বার্তা মাথা পেতে নিলাম এবং আনন্দ চিত্তে বিক্রি করলাম এবং হাজার কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করলাম।
আর অপর প্রতারিত ফেরআউনী প্রেতাত্মা,দাম্ভিক ও মাতাল যেন সে চিরস্থায়ীভাবে ঐ খামারে থাকবে । দুনিয়ার ভয়াবহতা ও বিশৃঙ্খল অবস্থা সম্পর্কে গাফেল হয়ে বলল, না আমি কিছুতেই আমার মালিকানা বিক্রি করবো না তিনি কিসের সুলতান ? কিছুতেই আমি আমার চরম আনন্দ ও প্রশান্তিকে নষ্ট হতে দেবনা।
আর অল্প কিছুদিনের মধ্যেই ঐ প্রথম ব্যক্তি সুলতানের অনুগ্রহ লাভ করল। বিশেষ প্রসাদে মহা আনন্দে ব্যবসা করতে লাগলো এবং মর্যাদার এমন একটি স্থরে পৌছল যা দেখে সাধারন মানুষ ইর্ষা করতে লাগলো।
24. Page
আর দ্বিতীয় ব্যক্তি যে বিভিন্ন অবস্থায় পরীক্ষার সম্মুখীন হল।তার জন্য মানুষ দু:খ প্রকাশ করতে লাগল এমন কি তারা বলতে লাগলো এই লোক এই শাস্তির উপযুক্ত। তার ভুলের কারনে তার মালিকানা ও সুখশান্তি বিদূরিত হল এবং আযাব ও দন্ডবিধির সম্মুখীন হল ।
সুতরাং হে অধিক কামনা বাসনা কারী নফস এই উদাহরণের আলোকে প্রকৃত অবস্তার দিকে দৃষ্টিপাত কর ।
এই উপমাতে সুলতাল হলেন তোমার রব, তোমার স্রষ্টা যিনি চিরস্থায়ী বাদশা যার শুরুও নেই ও শেষও নেই ।
আর ঐ ক্ষেত খামার, যন্ত্রপাতি, উপকরণ এগুলো হল তোমার জীবন পরিমন্ডল যাতে রয়েছে শরীর, রুহ ও অন্তর যে গুলোর মালিকানা তুমি ভোগ কর আর যাতে রয়েছে দৃশ্যমান ও অদৃশ্যমান অনুভুতিশীল অঙ্গ প্রত্যঙ্গ যেমন চক্ষু, জ্বিহবা, বুদ্ধি ও খেয়াল।
আর ঐ সম্মানিত দূত হলেন রাসূল (সা:) আর ঐ প্রজ্ঞাময় রাজকীয় বার্তা হলো কুরআনুল কারীম যাতে রয়েছে খুব বড় ব্যবসার কথা যা এই আয়াতে বলাহয়েছে: “নিশ্চয়ই আল্লাহ মুমিনদের জান ও মাল জান্নাতের বিনিময়ে ক্রয় করে নিয়েছেন”
আর উত্তাল তরঙ্গায়িত যুদ্ধের ময়দান হল এই অশান্ত দুনিয়া যা স্থির থাকেনা পরিবর্তন হয়ে যায় উলটা পাল্টা হয়ে যায় এবং নষ্ট হয়ে যায় এ অবস্থায় প্রত্যেক মানুষের মনে নিম্নের প্রশ্নগুলো জাগ্রত হয়।
যেহেতু আমাদের সকল কিছু আমাদের হাত থেকে পালিয়ে যাবে, অদৃশ্য ও ধ্বংস হয়ে যাবে। হায়!এগুলো অবশিষ্ট ও চিরস্থায়ী থাকার জন্য কোন উপায় কি নেই ?
যখন মানুষ এধরনের চিন্তা ও প্রশ্ন করছে তখনই কুরআনুল কারীমে আসমানী আওয়াযের প্রতিধ্বনি শুনাচ্ছে এবং বলছে হ্যাঁ অবশ্যই রয়েছে এটা হলো পাঁচ স্থরে সজ্জিত লাভজন, আরামদায়ক ও উত্তম একটি উপায়।
প্রশ: সেই উপায়টা কি?
25. Page
উত্তর: সেই উপায়টা হলো আমানত কে তার প্রকৃত মালিকের কাছে বিক্রি করে দেয়া ।এই বেচাকেনায় রয়েছে পাঁচ স্থর বিশিষ্ট্য লাভ্যাংশ।
প্রথম লাভ : ধ্বংস প্রাপ্ত সম্পদ স্থায়ীত্ব অর্জন করবে, কেননা এই নশ্বর জীবন কাল যাদি অতিবাহিত করা হয় ব্যয় করা হয় চিরস্থায়ী (আল বাকী) চিরঞ্জীব (আল কাইয়্য়ুম) ও মহিমাময়(যুল যালাল) এর জন্য তাহলে ঐ জীবন স্থায়ী জীবন লাভ করবে এবং তা স্থায়ী ফলাফল প্রদান করবে। তখন জীবনের প্রতিটি মিনিট নি:শেষ হওয়া যেন শস্য দানা ও বীজের মত যা বাহ্যিক ভাবে নি:শেষ হয়ে যায় কিন্তু চিরস্থায়ী জীবনকে সুখ সাচ্ছন্দ ও ফুলে ফলে সুস্বভিত করবে এবং বারযাখের জীবনে প্রিয়, আনন্দদায়ক ও আলোকিত দৃশ্যে রূপলাভ করবে।
দ্বিতীয় লা : জান্নাতরে মত সম্পদ লাভ করবে।
তৃতীয় লাভ : প্রত্যেক অঙ্গ প্রত্যঙ্গ ও অনুভুতির মূল্যমান এক থেকে হাজারে উন্নতি হবে। যেমনবুদ্ধি একটি উপকরণ যদি এটাকে আল্লাহর কাছে বিক্রি না করে মনের ইচ্ছামত ব্যবহার করা হয় । তাহলে অচিরেই এটা ক্ষতিকর,বিরক্তি কর ও অশুভ অঙ্গ হিসেবে রূপ লাভ করবে। এমনকি দুর্ভাগ্যজনক ক্ষতিকর অঙ্গেরপর্যায়ে নামাবে যা তোমার অকেজ মাথায় চাপিয়ে দিয়ে বিষাদময় অতীতের যন্ত্রনা ও ভিতিকর ভবিষৎতের কথা মনে করিয়েদেবে তাই পাপাচারী ব্যক্তিরা অধিকাংশ ক্ষেত্রে তা থেকে বাঁচার জন্য নেশা অথবা রঙ্গতামাশার প্রতি ঝুকে পড়ে।
আর যদি এটাকে তার প্রকৃত মালিকের নিকট বিক্রি করা হয় এবং তার কাজেই ব্যবহার করা হয়। তাহলে তা যাদুর মন্ত্রের মত হবে যা দিয়ে অফুরন্ত রহমতের ভাণ্ডার ও এই বিশ্বজাহানের সীমাহীন জ্ঞান ভান্ডার খোলা যাবে । এবং এটা রাব্বানী পথ প্রদর্শকের স্তরে পৌছাবে যা তার সঙ্গীকে চিরস্থায়ী সুখ সমৃদ্ধির দিকেনিয়ে যাবে।
* দৃষ্টি শক্তি : এটা জানালার মত । রূহ যার মাধ্যমে বিশ্বকে প্রত্যক্ষ করে । যদি তুমি এটাকে প্রবৃত্তির ইচ্ছানুযায়ী ব্যবহার কর, আল্লাহর নিকট বিক্রি না কর তাহলে
26. Page
তা দুনিয়ার কিছু অস্থায়ী দৃশ্য ও সৌন্দর্য অবলোকন করার মাধ্যমে মনের কুপ্রবৃত্তি ও ব্যভিচারের নিকৃষ্ট অগ্রদূত হিসেবে রূপলাভ করবে। কিন্তু তুমি যদি এই চক্ষুকে তার প্রকৃত স্রষ্টার নিকট বিক্রি কর যিনি হলেন সকল কিছুর দ্রষ্টা এবং তার অনুমতির সীমানায় ও তারই পথে ব্যবহার কর তাহলে ঐ চক্ষুটি বিশ্বজগত নামক মহাগ্রন্থের পাঠকের স্থরে উপনিত হবে এবং এ পৃথিবীতে রাব্বানী সৃষ্টির অলৌকিকতার প্রত্যাক্ষদর্শী হবে এবং বরকতময় মৌমাছির মত হবে যে পৃথিবীর বাগানে রহমতের পুস্প থেকে মধু আহরণ করে।
তৃতীয় উদহরণ জিহবা : যদি জিহবার আস্বাদন শক্তি কে তার প্রজ্ঞাময় স্রষ্টার নিকট বিক্রি না করে পেট ও প্রবৃত্তির ইচ্ছানুযায়ী ব্যবহার কর তাহলে তা পাকস্থলী ও তার পায়খানা নামক কারখানার দারজা ও তার আস্থাবলের স্থরে পৌছাবে। কিন্তু তুমি যদি তা মহান রিযিকদাতার নিকট বিক্রি করতে তাহলে তার স্বাদ আস্বাদন শক্তি আল্লাহর রহমতের ভান্ডারের দক্ষ পর্যবেক্ষক এবং অমুখাপেক্ষী শক্তির খাদ্য ভান্ডারের কৃতজ্ঞ নিরিক্ষকের মর্যাদায় উন্নতিহবে।
সুতরাং হে আকল, চিন্তা কর বিশ্বজাহানের জ্ঞান ভান্ডারের চাবির মর্যাদার তুলনায় অশুভ অঙ্গের মর্যাদা কত নিম্নস্তরে।
হে চক্ষু, দৃষ্টি সুন্দর কর দেখ বিশ্বজগতে আল্লাহর সৃষ্টির পর্যবেক্ষণ কারীর মর্যাদার তুলনায় ব্যভিচারের দূতের মর্যাদা কত নিম্নস্থরের ।
হে জিহবা সুন্দর করে স্বাদ গ্রহন কর রহমতের বিশেষ ভান্ডারের নিরক্ষণ কারীর মর্যাদার তুলনায় একটি কারখানার দারোয়ান এবং পায়খানার দাররক্ষী মর্যাদায় কত নিম্নস্থরের
এভাবে যদি অন্যান্য সকল অনুভুতি ও অঙ্গ প্রত্যঙ্গকে এগুলোর উপর তুলনা কর তাহলে তুমি অচিরেই বুঝতে পারবে যে মুমিনরাই জান্নাতের উপযুক্ত তারাই সত্যিকার অর্থে তা লাভ করবে। আর কাফিররাই জাহান্নামের উপযুক্ত এবং সত্যিকার অর্থে তারাই তা লাভ করবে। তাদের প্রত্যেকের এধরনের মর্যাদালাভ করার একমাত্র কারন হল যে, মুমিনরা তাদের ঈমানের কারনে তার স্রষ্টার আমানতকে আল্লাহর নামেই এবং
27. Page
তাঁর অনুমোদিত সীমানার মধ্যেই ব্যবহার করে থাকে। আর কাফেররা তাদের স্রষ্টার আমানতকে খেয়ানত করে মনের কুপ্রবৃত্তির ইচ্ছানুযায়ী ব্যবহার করে
চতুর্থ লাভ:
নিশ্চয়ই মানুষ খুব দূর্বল প্রাণী, প্রচুর বালামুসিবতের সম্মুখীন, অসংখ্য প্রয়োজনের প্রতি মুখাপেক্ষী,অক্ষম তার জীবনের বোঝা খুব ভারী । সে যদি মহান পরাক্রমশালী ক্ষমতাবান মালিকের সাথে সম্পৃক্ত না হয় এবং তার উপর ভরসা না করে,নির্ভর না করে তার নিকট আত্মসমর্পণ না করে । তাহলে তার বিবেক সব সময় কষ্টের মধ্যে থাকবে এবং কষ্ট,যন্ত্রনা, আফসোস, ও দুঃশ্চিন্তা তাকে ডুবিয়ে রাখবে কোন ফায়দা ও ফলাফল ছাড়াই। তাকে হয়ত ঘোর মাতাল অথবা হিং¯্র বন্য পশুর ন্যায় বানিয়েদিবে।
পঞ্চম লাভ:
আহলে যাওক ও আহলে কাশফ, আহলে ইখতিছাছ ও মুশাহিদ সবাই একমত যে ঐ সকল অঙ্গ প্রত্যঙ্গ, ইন্দ্রানুভুতি ও তাসবীহ ও এগুলোর সুউচ্চ মূল্য সমূহ তোমাকে জান্নাতি ফলের আকৃতিকে প্রদান করা হবে যে সময় তার প্রতি তুমি খুবই মুখাপেক্ষীহবে। এভাবে পাচঁস্তর বিশিষ্ট লাভজনক ব্যবসায় যদি তুমি লেগে না থাক তাহরে পাচঁস্তর সমান ক্ষতিতে পতিত হবে, সাথে সাথে ঐ লাভজন ব্যবসা থেকেও নিশ্চিত বঞ্চিত হবে
প্রথম ক্ষতি
যে সন্তান ও সম্পদ কে তুমি খুব ভাল বাসতে তা অচিরেই বিলীন হয়ে যাবে ধ্বংস হয়ে যাবে। যে নফস ও প্রবৃত্তিকে ভালবেসেছ দাসত্বের ন্যায় এবং যে জীবন ও যৌবনকে পেয়েছ এ সব কিছুই নি:শেষে হয়ে যাবে,তার সাথে তোমার জন্য তাদের পাপ ও যন্ত্রনা রেখে যাবে এবং তোমার ঘাড়ে তা চাপিয়ে দিবে।
28. Page
দ্বিতীয় ক্ষতি
আমানতের খেয়ানতের কারনে অচিরেই শাস্তি পাবে। কেননা মুল্যবান অঙ্গ প্রত্যঙ্গ ও ইন্দ্রানুভুতি সমূহ কে সবচেয়ে খারাপ ও অধম বিষয়ে ব্যবহার করে তোমার নফসের উপর জুলুম করেছ।
তৃতীয় ক্ষতি
তুমি ইলাহী হিকমতের উপর মিথ্যারোপ করেছে এবং মহামুল্যবান মানুষত্বের অঙ্গ প্রত্যঙ্গ ও ইন্দ্রানুভুতিকে নিকৃষ্ঠ স্তরে নামিয়ে তার উপর অবিচার করেছ।
চতুর্থ ক্ষতি
তুমি অচিরেই জীবনের ভারী বোঝা দূর্বল স্কন্ধের উপর বহন করে সর্বদা বিলীন ও বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়ার আঘাতে চিৎকার ও হাহাকার করতে থাকবে ।
পঞ্চম ক্ষতি
রহমানী উপহার গুলো পরিবর্তন হয়ে এমন কুৎসিৎ আকৃতি ধারন করবে যা তোমার জন্য জাহান্নামের দরজা খুলে দেবে। রহমানী উপহারগুলো যেমন: বুদ্ধি,অন্তর,চক্ষু ও জ্বীহবা যেগুলোকে উপহার হিসেবে প্রদান করা হয়েছে যাতে তুমি চিরস্থায়ী ও আখেরাতের সুখী সমৃদ্ধ জীবনের প্রয়োজনীয় উপকরণ গুলো অর্জন করতে পার।
এখন আমরা এই বিক্রয়ের দিকে দৃষ্টিপাত করি। হায়! এটা কি এতই ভারী ও কঠিন বিষয় যে, অসংখ্যা মানুষ এই বিক্রয় থেকে দৌড়ে পালাচ্ছে ? না কিছুতেই এটা এত ভারী ও কঠিন বিষয় নয়। কেননা হালাল বিষয়ের পরিসরে অনেক ব্যাপক। মনের চাহিদা ও সুখ শান্তি অর্জনের জন্য এটা যথেষ্ট। বাস্তবেই হারাম কাজে লিপ্ত হওয়ার কোন প্রয়োজন নেই।
আল্লাহ প্রদত্ত ফরজ সমূহ খুবই কম ও পালনে হালকা ধরনের আর আল্লাহর দাসত্ব ও তার সৈনিকত্ব সেটাই হল সম্মান জনক ও তৃপ্তি দায়ক যা ভাষায় বর্ণনা করা যায় না।
29. Page
সুতরাং প্রত্যেক ব্যক্তির কর্তব্য হল আল্লাহর নাম নিয়ে কাজ করা একজন সাধারণ সৈনিকের মত, আল্লাহর রাস্তায় কোন কিছু দান করা অথবা গ্রহন করা আর তাঁর আইন অনুযায়ী ও তাঁর অনুমোদীত সীমার ভিতরেই চলাফেরা করা। যখন ভূল করবে তখন তার নিকট ক্ষমা চাওয়া । তাঁর নিকট অনুনয় বিনয় করা এবং এই বলা হে আমাদের রব , আমাদের ত্রুটি বিচ্ছুতি গুলো ক্ষমা কর। আমাদেরকে তোমার একজন বান্দা হিসেবে গ্রহন কর । এবং মৃত্যু পর্যন্ত আপনার আমানত রক্ষা করার তাওফিক দাও। আমিন


