তৃতীয় কালিমা

11. Page

তৃতীয় কালিমা


بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَٰنِ الرَّحِيمِ

يَا أَيُّهَا النَّاسُ اعْبُدُوا رَبَّكُمُ)

“হে মানুষ তোমরা তোমাদের রবের ইবাদত কর..” সূরা বাকারা ২১

তুমি যদি বুঝতে চাও যে কিভাবে ইবাদত হল এক লাভ জনক ব্যবসা এবং বিশাল সুখ স্বাচ্ছন্দ? আর কিভাবে ফাসিকী ও বোকামী হল মারাত্তক ধ্বংস ও ক্ষতি? তাহলে এই উপমা স্বরূপ ছোট বর্ণনার দিকে দৃষ্টি দাও এবং মনোযোগ দিয়ে শ্রবণ কর।

দুইজন সৈনিক একদিন সাক্ষাত করলেন, দূরে একটি শহরে যাওয়ার জন্য অতপর দুজনে একসাথে যাত্রা শুরু করলেন তারপর এমন একজায়গায় আসলেন, যেখানে রাস্তা দুভাগে ভাগ হয়ে গেছে তখন তারা এক ব্যক্তিকে পেলেন , ব্যক্তিটি তাদের দুজনকে বললেন:

এই ডান দিকের রাস্তাটিতে কোন ক্ষতি নেই বরং এ পথ অবলম্বনকারী নয় দশমাংশ বিশাল প্রশান্তি ও মুনাফা অর্জন করে । আর ঐ বাম দিকের রাস্তাটি অবলম্বনকারী নয় দশামংশই ক্ষতির সম্মুখীন হবে কোন ধরনের উপকার ছাড়াই । এই দুই রাস্তাই দৈর্ঘ ও প্রস্তের দিক দিয়ে সমান তবে তাদের মধ্যে একটি পার্থক্য আছে সেটি হল:

বামদিকের রাস্তার কোন নিয়ম শৃংখলা ও প্রশাসন নেই । তাতে সফরে প্রয়োজনীয় ব্যাগ ব্যাগেজ ও নিরাপত্তার অস্ত্র-সস্ত্র ছাড়াই চলতে হবে ফলে সফরে কিছুটা হালকা ও মেকী স্বস্থী বোধ করবে।

কিন্তু ডান দিকের পথ যাতে সামরিক নিয়ম শৃংখলা রয়েছে তাতে সফর কারীদের প্রয়োজনীয় আসবাব পত্র খাবার দাবার ও রসদ বোঝাই করা ভারী ব্যাগ বহন করতে হবে এবং ভারী বৈধ অস্ত্র বহন করতে হবে যা যে কোন শক্র ও যে কোন আক্রমনকে প্রতিহত করতে সক্ষম।



12. Page

ঐ ব্যক্তির কথা শুনার পর দুই সৈনিকের একজন ডান দিকের রাস্তা অবলম্বন করল এবং তার কাধে ও পিঠে ভারী ভারী ব্যাগ বহন করল ফলে তার অন্তর ও রুহ ভয়ভীতি ও করুনার হাজারো বোঝা থেকে নিস্কৃতি পেল।

কিন্তু অন্য দূর্ভাগা সৈনিকটি সেনাবাহিনীর নিয়ম শৃংখলা মানতে অস্বীকার করল এবং সৈনিকের পদ ছেড়ে দিল এবং বাম দিকের রাস্তা অবলম্বন করল ফলে তার শরীর কিছু বোঝা বহন করা থেকে নিস্কৃতি পেল কিন্তু তার অন্তর প্রচন্ড কষ্টের কারনে দূর্বল ও মাটিতে তলিয়ে গেল এবং হাজার হাজার অপমানের ভারে চূর্ণ বিচূর্ণ হয়ে গেল আর তার রুহ সিমাহীন ভয়ভীতির মধ্যে পতিত হল এবং চলার পথে প্রত্যেকের কাছে তার ভিক্ষা চাইতে হল। যে কোন ঘটনা ও যে কোন ব্যাপারে কম্পিত হল এভাবে সে তার কাংক্ষিত স্থানে পৌছাল এবং সেখানে সে অবাধ্য ও পলায়ন কারীর শাস্তির সম্মুখীন হল।

কিন্তু ডান দিকের পথ অবলম্বনকারী , অস্ত্র ও ব্যাগ ব্যাগেজ সংরক্ষণকারী সামরিক শৃংখলাকে পছন্দ কারী সৈনিকটি অত্যান্ত প্রশান্ত অন্তরে আনন্দচিত্তে কোন ধরনের করুনা ও ভয়ভীতি ছাড়াই পথ অতিক্রম করেছে এভাবেই তার কাংখিত শহরে পৌছেছে । এবং সেখানে একজন মর্যাদাবান সৈনিকের পুরুষ্কার পেয়েছে।

সুতরাং হে অবাধ্য অন্তর, জেনে রাখো ঐ পথ অবলম্বনকারী দুজনের একজন আল্লাহর আইনের আনুগত্যকারীদের প্রতিনিধিত্ব করেছে আর অপর জন অবাধ্য ও নফসের কুমন্ত্রনার অনুসারীদের প্রতিনিধিত্ব করেছে। আর ঐ রাস্তাটি হল জীবন চলার পথ যা রুহের জগত থেকে শুরু হয়ে কবর অতিক্রম করে আখেরাত পর্যন্ত বিস্তিত।

আর ঐ ব্যাগ ও অস্ত্র হল যথাক্রমে ইবাদত ও তাকওয়া কেননা বাহ্যিক ভাবে যদিও ইবাদতে কিছুটা বোঝা রয়েছে কিন্তু বাস্তবে তাতে রয়েছে এমন হালকা ও প্রশান্তি ভাব যা ভাষায় বর্ণনা করা যাবেনা । যখন একজন বান্দা তার নামাজে“ أَشْهَدُ أَنْ لَا اله الَّا الله” অর্থাৎ আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি আল্লাহ ছাড়া কোন ইলাহ নেই, আল্লাহ ছাড়া কোন সৃষ্টিকর্তা নেই , রিযিকদাতা নেই সকল কল্যান ও ক্ষতি তারই হাতে তিনি প্রজ্ঞাময় তিনি অহেতুক কোন কাজ করেন না তিনি হলেন করুনাময় খুব বেশি দয়া ও ইহসানকারী।


13. Page

তাঁর উপর দৃঢ বিশ্বাসের কারনে প্রত্যেক কিছুর মাঝেই রহমতের দরজা খুজে পায় তাই এই দরজাগুলোতে সে দুআ’র মাধ্যমে করাঘাত করে । অনুরুপভাবে সে দেখতে পায় প্রত্যেকটি জিনিসই তার রবের আদেশে বষিভূত ফলে সে সেই দিকে আশ্রায় গ্রহন করে। প্রত্যেক বিপদে আপদে তার উপর ভরসা করে, নির্ভর করে ফলে সুরক্ষিত হয়।

নিশ্চয়ই সাহসিকতার উৎস হল ঈমান ও আল্লাহর দাসত্ব যা সকল প্রকৃত ভাল কাজের মধ্যে পাওয়া যায় । অনুরূপ ভয়ভীতির উৎস হল পথভ্রষ্টতা যা সকল মন্দ কাজের মধ্যে পাওয়া যায়।

হ্যাঁ নিশ্চয়ই প্রকৃত আল্লাহর ইবাদত কারী পরিপূর্নভাবে আলোকিত অন্তরের হয়ে থাকে যদি সমগ্র পৃথিবী একটি বোমায় রুপান্তিত হয় এবং বিস্ফোরিত হয়, তা তাকে ভয় দেখাতে পারবেনা, বরং সে অত্যান্ত চমৎকার বুদ্ধিমত্তার সাথে অলৌকিক অমুখাপেক্ষী সত্তার ক্ষমতা প্রত্যক্ষ করবে । পক্ষান্তরে ভয়ে প্রকম্পিত হয়ে উঠবে প্রসিদ্ধ দার্শনিক যার ব্যাপারে বলা হয় আলোকোজ্জল বুদ্ধির অধিকারী । কিন্তু পাপীষ্ঠ মৃত অন্তরের অধিকারী যখন আকাশে ধুমকেতু দেখতে পায় তখন সরাসরি জিজ্ঞাসা করতে থাকে হায় ! এই দিকভ্রান্ত তারকাটি আমাদের এই পৃথিবীকে আঘাত করবে নাতো! সে কল্পনায় নিমজ্জিত হবে।(বাস্তবে এই রকম ঘটে ছিল আমেরিকাতে, এই ধরনের তারকা দেখে তাদের অনেকে রাতে ভয়ে ঘর থেকে বের হয়ে যায়।)

হ্যাঁ, মানুষ সীমাহীন জিনিসের প্রতি মুখাপেক্ষী হওয়া সত্তেও তার মূলধন হলো ”কিছুই নেই” এই বিধানের আওতাধীন । আর সীমাহীন বিপদ আপদের সম্মুখীন হওয়া সত্তেও তার ক্ষমতার সীমানা হল ”কিছুই নেই”এই বিধানের আওতাধীন । যেন তার ক্ষমতা ও মূলধনের সীমানা হলো তার হাত যে পযর্ন্ত পৌছে সেই পযর্ন্ত আর তার আশা- আক্ষাংখা ও বিপদ-আপদের সীমানা তার চক্ষু ও খিয়াল যেই পযর্ন্ত বিঅনুরূপ যে ব্যক্তি অন্তর চক্ষু ও অন্তর দৃষ্টিতে অন্ধ নয় সে অবশ্যই দেখতে ও বুঝতে পারবে যে ইবাদত, আল্লাহর উপর ভরসা, আল্লাহর একাত্ববাদ এবং আল্লাহর কাছে ুনাময় খুব বেশি দয়া ও ইহসানকারী।


14. Page

আত্মসমর্পণ এগুলো হলো মুখাপেক্ষী,অক্ষম,দূর্বল ও নিরুপায় মানুষের রুহের জন্য সবচেয়ে বড় লাভ, নেয়ামত ও আনন্দ ।

আর এ কথা সবার জানা যে নিরাপদ রাস্তাকে বিপদ জনক রাস্তার উপরে প্রাধান্য দেয়া হয় যদিও বিপদ জনক রাস্তাতে ক্ষতির সম্ভাবনা দশ ভাগের একভাগ হয়ে থাকে। আর এটাতো আরো বেশি সুস্পষ্ট যে ইবাদতের রাস্তা যে আমাদের আলোচ্য বিষয় সেটা সবচেয়ে নিরাপদ রাস্তা কেননা তাতে রয়েছে দশ ভাগের নয় ভাগেই চিরস্থায়ী আনন্দ ও সুখের ভান্ডার । আর পাপাচার ও নির্বুদ্ধিতার রাস্তা তাতে রয়েছে পাপিদের নিজের স্বীকৃতি অনুযায়ী কোন উপকার নেই । আর তাতে চিরস্থায়ী দুর্ভোগ ও ধ্বংসের সম্ভবনা দশ ভাগের নয় ভাগ যা সকলের ঐক্যমত্ত ও অগনিত বিশেষজ্ঞ ও প্রত্যক্ষদর্শিদের বর্ণনা দ্বারা স্ , দুনিয়ার সুখ হল আল্লাহর ইবাদতে ও তার সৈনিক হওয়াতে । অনুরুপ ভাবে আখেরাতের সুখ সাচ্ছন্দও তাতেই । তাই আমাদের উপর কর্তব্য হল সবর্দা আমাদের বলা:“সমস্ত প্রসংশা আল্লাহর জন্য যিনি আমাদের আনুগত্য ও তাওফিক দিয়েছেন”

 আমাদের উপর আরো কর্তব্য হল আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করা যে তিনি আমাদেরকে মুসলিম বানিয়েছেন।