অষ্টম পয়েন্ট
NAVIGATION
13. Page
অষ্টম পয়েন্ট : (لَقَدْ جَاءَكُمْ رَسُولٌ مِنْ أَنْفُسِكُمْ عَزِيزٌ عَلَيْهِ مَا عَنِتُّمْ حَرِيصٌ عَلَيْكُمْ بِالْمُؤْمِنِينَ رَءُوفٌ رَحِيمٌ)
তোমাদের নিকট তোমাদের মধ্য থেকেই এক রাসূল এসেছেন। তোমাদের যা বিপন্ন করে তা তাঁর জন্য কষ্টদায়ক। তিনি তোমাদের কল্যাণকামী , মুমিনদের প্রতি অতীব দয়ালু, পরম করুণাময়। (সূরা তাওবা ১২৮)
এবং এই আয়াত فَإِنْ تَوَلَّوْا فَقُلْ حَسْبِيَ اللَّهُ ” যদি তারা মুখ ফিরিয়ে নেয়,তবে তুমি বল আল্লাহই আমার জন্য যথেষ্ট। ” (সূরা তাওবা ১২৯)
এই আয়াত গুলো স্পষ্ট ভাবে বর্ণনা করছে উম্মাতের প্রতি রাসূলুল্লাহ (সাঃ) এর পরিপূর্ণ দয়া ও চুড়ান্ত অনুগ্রহের কথা। এই আয়াতে বলা হয়েছে (فَإِنْ تَوَلَّوْا ) যদি তারা মুখ ফিরিয়ে নেয়, অর্থাৎ হে মানুষেরা ,হে মুসলমানরা , তোমরা যেন রাখ কতইনা জুলুম অন্যায় কতইনা নির্বোদ্ধিতা তোমাদের সুন্নাত ও বিধিবিধান থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয়া যা ঐ স্নেহশীল অনুগ্রহ পরায়ণ ব্যক্তি তোমাদের নিকট পৌছে দিয়েছে এবং সীমাহীন ভালবাসায় তা শিক্ষা দিয়েছে। তোমাদের কল্যাণে তাঁর সমস্ত চেষ্টা প্রচেষ্টা ব্যায় করেছেন। তোমাদের নৈতিক অভ্যন্তরিন ক্ষতি সমূহকে মুছেদিয়েছেন ।তিনি যে বিধিবিধান ও সুন্নাত নিয়ে এসেছেন তা দিয়ে অত্যন্ত দয়া ও ভালবাসার মাধ্যমে তার চিকিৎসা করেছেন অর তোমরা এমন যে তোমরা ঐ ভালবাসাকে অস্বীকার করছ। যেন চাক্ষুষ দেখা অনুগ্রহকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করছ।
হে দয়ালু রাসূল , হে স্নেহপরায়ন নবী, এরা যদি তোমার অগনিত ভালবাসা ও বিশাল অনুগ্রহ না বুঝে এবং এগুলোর মূল্যায়ন না করে। যদি তারা তাদের বোকামী ও নির্বুদ্ধিতার কারনে তোমার থেকে মুখফিরিয়ে নেয় তোমর কথায় ভ্রæক্ষেপ না করে তাহলে তুমি দুঃশ্চিন্তা ও আফসোস করনা। জেনেরাখ মহীয়ান আল্লাহ তায়ালার আদেশেই আকাশ ও পৃথিবীর সৈন্যবাহিনী পরিচালিত হয়। তাঁর রুবুবিয়াতের সাম্রারাজ্যের নিয়ন্ত্রণ মহান আরশের উপর যা সমস্ত কিছু ব্যাপ্ত করে আছে। তিনিই তোমার জন্য যথেষ্ট। তিনিই তোমার চতুরপার্শের আনুগত্যশীল শ্রেণীদের সত্যিকার অর্থে একত্রিত করবেন। তিনিই তাদেরকে তোমার কথা শ্রবণ ও তোমার হুকুম ,আদেশ নিষেধ কে গ্রহণ করার ব্যবস্থা করে দিবেন।
14. Page
এটা ঠিক যে, মোহাম্মদী শরীয়তের ও তাঁর সুন্নাতের - তাঁর উপর দূরূদ ও সালাম- এমন কোন বিষয় নেই যাতে অসংখ্য হিকমত বা তাৎপর্য নেই। আমি অধম আমার সকল অক্ষমতা ও ত্রুটি বিচ্যুতি থাকা সত্বেও এই দাবী করছি। আর আমি আমার এই দাবী প্রমাণের জন্য প্রস্তুত । অতঃপর এই পর্যন্ত রাসাইলুন নূরের সত্তর বা আশিটি রিসালা লিখা হয়েছে ও গ্রন্থনা হয়েছে। এই সত্তরটি বা আশিটির প্রত্যেকটি একটি সত্যিকার সাক্ষ্য যে মুহাম্মদী শরীয়তের ও সুন্নাতের বিধিবিধান সমূহ কতইনা প্রজ্ঞাপূর্ণ । যদি এই সম্পর্কে লিখতে বলা হয় তাহলে সত্তর টি রিসালা নয় সত্তর হাজার রিসালা লিখে ঐ হিকমকে গননা করে শেষ করা যাবেনা।
আমি ঘোষণা করছি আমি নিজে প্রত্যক্ষ করে ও উপভোগ করার মাধ্যমে বরং হাজার বার যচাই বাচাই করে বুঝতে পেরেছি যে, নিশ্চয় শরীয়তের বিধিবিধান ও আলোকিত সুন্নাতের নিয়ম নীতি হল রূহ , আকল ও অন্তরের রোগ সমুহের সবচেয়ে উপকারী মহৌষধ । বিশেষ করে সামাজিক ব্যাধির।
আমি নিজে স্বচক্ষে প্রত্যক্ষ করে বুঝতে পেরেছি এবং রাসাইলুন নূরের মাধ্যমে অন্যদের বুঝাতে পেরেছি যে, দর্শন ও জ্ঞান বিজ্ঞানের বিধিবিধান ও বিধিবিধানের সমতুল্য বা স্থলাভিষিক্ত হওয়া সম্ভব নয়।আমার এই দাবির ব্যাপারে যারা সন্দেহ পোষণ করেন তাদের উচিত রাসাইলুন নূরের বিভিন্ন খন্ড অধ্যয়ন করা ও ভালভাবে অনুধাবন করা।
সুতরাং ঐ ব্যক্তি যে সাধ্যানুযায়ী সুন্নাতের অনুসরনের চেষ্টা করে তার কি পরিমান লাভ এবং চিরস্থায়ী জীবনে কি পরিমাণ সুখ স্বাচ্ছন্দ লাভ করবে এবং দুনিয়ার জীবনে কি পরিমাণ কল্যান ও উপকার রয়েছে তা পরিমাপ করা যাবে ।


