চতুর্থ পয়ন্ট

4. Page

চতুর্থ পয়ন্ট: এক দিন আমি নিজেকে একটি আশ্চর্য জগতে খুজে পেলাম । রুহানী অবস্থায় মৃত্যুর বন্ধনে আবদ্ধ হলাম । সত্যিকার মৃত্যুও রহস্য সম্পর্কে , বিশ্বজগতের ধ্বংশ ও বিলীন হওয়া সম্পর্কে।অতঃপর আমি লক্ষ্য করলাম এবং নিজেকে লাশের মত দেখতে পেলাম। তিনটি বড় ও গুরুত্বপূর্ণ কফিনের উপর দড়িয়ে আছি।


প্রথমটি : আমার জীবনের সাথে সম্পিৃক্ত একদল প্রণীকুলের লাশের পাশে কবরের প্রত্যক্ষ কারীর ন্যায় আমি যেন দাড়িয়ে আছি । যেসকল প্রাণী ইতিপূর্বে কবরে প্রবেশ করেছে। 

দ্বিতীয়ত : আমি যেন একটি বিন্দুর ন্যায় যা খুব দ্রুত মুছে যায় । একটি পিপড়ার ন্যায় যে এই বিশ্বজগতে দ্রুত মারা যায়, যে মানব জীবনের সাথে সম্পৃক্ত যারা ইতি পূর্বে গোলাকার পৃথিবীতে কবরস্থ হয়েছে তাদের জানাযায় সাক্ষী স্বরূপ।


তৃতীয়ত: কেননা কেয়ামতের দিন এই বিশ্ব জগতের মৃত্যুঘটা নিশ্চিত। আমার দৃষ্টিতে তা নিশ্চিত ঘটে যাওয়া বিধানে পরিণত হয়েছে। এই বিশাল মৃতদেহের মৃত্যু যন্ত্রনার কারনে আমি নিজেকে হতবুদ্ধি অবস্থায় দেখতে পেয়েছি । তার মৃত্যুতে আমি নির্বাক ও কিংকর্তব্যবিমূঢ় হয়েগেছি। আমর নিকট স্পষ্ট হয়ে গেল যে এখন আমার মৃত্যু ঘটবে । আমার মৃত্যুতে সমস্ত সৃষ্টিকুল ও প্রিয়জন পৃষ্ঠ প্রদর্শন করল। আমাকে ফেলে গেল । একা রেখে গেল যা এই আয়াতের গোপন ব্যখ্যা  (فَإِنْ تَوَلَّوْا ) যদি তারা মুখ ফিরিয়ে নে। আমার রুহকে তাড়িয়ে ভবিষ্যতের চিরস্থায়ী জীবনের দিকে নিয়ে যাওয়া হলো । যা এমন সমুদ্রের আকৃতি ধারণ করল যার শেষ সীমা নেই। সেখানে সবাই কে ঝাপ দিতে হবে ইচ্ছায় হোক অথবা অনিচ্ছায় হোক । আমরা চাই অথবা না চাই। 

আমি যখন ঐ আশ্চার্যজনক অবস্থায় খুব দু:শ্চিন্তাগ্রস্থ ছিলাম তখনই আমাকে এই আয়াত উদ্ধার করেছে

 (فَإِنْ تَوَلَّوْا فَقُلْ حَسْبِيَ اللَّهُ لَا إِلَٰهَ إِلَّا هُوَ ۖ عَلَيْهِ تَوَكَّلْتُ ۖ وَهُوَ رَبُّ الْعَرْشِ الْعَظِيمِ  







5. Page

তারা যদি মুখ ফিরিয়েনেয়, তবে তুমি বল আল্লাহই আমার জন্য যথেষ্ট।তিনি ছাড়া আর কোন ইলাহ নেই তার উপরই আমি তাওয়ক্কুল করলাম, তিনিই মহান আরশের প্রভু। (সূরা তাওবা ১২৯)

ইহা শান্তি ও নিরাপত্তার ক্ষেত্রে জাহাজের মত হয়ে গেল। ফলে আমার রুহ পূর্ণাঙ্গ আনন্দ ও নিরাপত্তার সাথে এই আয়াতে মনোনিবেশ করল।

হ্যাঁ , আমি বুঝতে পারলাম এই আয়াতের স্পষ্ট অর্থ ছাড়া তার ইঙ্গিত বাচক অর্থ আমাকে সান্তনা দেয়। ফলে আমি শান্তনা পাই। তা আমাকে প্রশান্তি উপহার দিয়াছে।

হ্যাঁ, আয়াত টি যেভাবে তার স্পষ্ট অর্থে রাসূল সাঃ কে বলছে ” যদি পথ ভ্রষ্টরা পৃষ্ট পদর্শন করে এবং আপনার শরীয়ত ও সুন্নাত থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয়,কোরআনের নির্দেশনা শুনেনা তাহলে তুমি দু:শ্চিন্তা করনা বরং বল আল্লাহই আমার জন্য যথেষ্ট তাঁরই উপরই আমি ভরসা করি। তিনি তোমাদের পরিবর্তে যারা আমার শরীয়তের ও সুন্নাতের অনুসরণ করবে তাদেরকে তৈরী করবেন, লালন পালন করবেন। তাঁর ক্ষমতা প্রত্যেকটি জিনিষে পরিব্যাপ্ত। কোন অবাধ্য তার সীমানা থেকে পলায়ন করতে সক্ষম নয় । আর তাঁর সাহায্য গ্রহণ কারীর সাহায্যকেও কেউ আটকাতে পা রবেনা। অনুরূপভাবে এই আয়াতের ইঙ্গিত বাচক অর্থ বলছে ” হে মানুষেরা, হে মানুষের নেতা ও মুরশিদরা, তোমাকে যদি সমস্ত সৃষ্টিকুল পরিত্যাগকরে এবং মৃত্যুর পথে বিলীন হয়ে যায়। যদি প্রাণীকুল তোমাকে ছেড়ে যায় এবং তারা মৃত্যুর পথে যাত্রা করে, যদি মানুষ তোমাকে পরিত্যাগ করে এবং কবরে প্রবেশ করে। গাফেল ও পথভ্রষ্টরা যদি তোমার কথা না শুনে এবং অন্ধকারে পতিত হয় তাহলে তুমি উদ্বিগ্ন ও দুঃশ্চিন্তাগ্রস্ত হয়োনা। বরং বল আল্লাহাই আমার জন্য যথেষ্ট। তিনি যেহেতু আছেন তাহলে সকল কিছু থাকবে সুতরাং যারা চলেগেছে তারা চিরতরে অস্তিত্বহীন হয়নি বরং তারা মহান আরশের মালিকের কাছে আখেরাতের জীবনে প্রবেশ করেছে। নিশ্চয় তিনি তাদের পরিবর্তে আরেকদল অগণিত সৈন্য পাঠাবেন । অনুরূপ যারা কবরে প্রবেশ করেছে তারা নিঃশ্বেস হয়ে যায়নি । বরং তারা আখেরাতের জগতে প্রবেশ করেছে। নিশ্চয় আল্লাহ তায়ালা তাদের পরিবর্তে আরেক দলকে পাঠাবেন। আর তিনি আনুগত্যশীল বান্দাদের পাঠাতে সক্ষম। যারা ভ্রান্ত পথের অনুসরণ করেছে তারা তার পরিবর্তে সত্য


6. Page

পথের আনুগত্য করবে। যেহেতু বিষয়টি এমনই সুতরাং তিনি সকল কিছু থেকে অমুখাপেক্ষী। সকল কিছু তার মুখাপেক্ষী।

           আয়াতের এই ইঙ্গিত বাচক অর্থে এই তিনটি ভীতিকর লাশ যা অন্যভাবে আমাকে আতঙ্কিত করেছে। সেটা হল সমগ্র বিশ্ব এভাবে জ্বলে উঠবে, কেঁপে উঠবে। তাতে একদল আসবে আরেকদল চলে যাবে ভ্রমনের উদ্দেশ্যে একটি শিক্ষামূলক ও প্রজ্ঞাপূর্ণ সফরের আকৃতিতে । বিশেষ দায়িত্ব ও কর্তব্যের আলোকে মহা ক্ষমতাবান, ন্যায়পরায়ন, পরম দয়ালু ও প্রজ্ঞাপূর্ণ প্রভুত্বের ব্যবস্থপনার অধীনে কাজ করা ও ফিরে যাওয়ার জন্য।


TABLE OF CONTENTS