নবম পয়েন্ট
NAVIGATION
15. Page
নবম পয়েন্ট: অতি বিশেষ স্থরের লোক ছাড়া সবার পক্ষে সকল প্রকার সুন্নাতের পরিপূর্ণ ও বাস্তবিক ভাবে অনুসরণ করা সহজ নয়। কিন্তু প্রত্যকের পক্ষেই সম্ভব ঐ আনুগত্যটা সন্ধান করা চাওয়া,নিয়ত, ইচ্ছা, জোটবদ্ধতা ও মেনে চলার মাধ্যমে। যদিও পরিপূর্ণভাবে অনুসরণ করা সম্ভব হবেনা।
আলোকিত সুন্নাতের যে অংশটা ফরজ ও ওয়াজিব তার অনুসরণ করা মৌলিক ভাবে জরুরী আর আদাত অভ্যাসের ক্ষেত্রে যে সকল মুস্তাহাব সুন্নাত রয়েছে তা পরিত্যাগ করা বড় সাওয়াবকে নষ্ট করা। যদিও তা পরিত্যাগ করার মধ্যে কোন পাপ নেই। তবে তা পরিবর্তন করা বড় ভুল ।
কিন্তু আদাত-অভ্যাস ও মুয়ামালাত (লেনদেন) এর সুন্নাত, অবিচল ও নিরবচ্ছিন্ন ভাবে পালনের মাধ্যমে ঐ সকল আদাত-অভ্যাস ইবাদতে পরিণত হবে। যদিও কেউ তা পালান নাকরে তাতে কোন দোষ নেই। তবে আল্লাহর হবীব (সাঃ) এর দৈনন্দিন জীবনের আদাতের নূর থেকে উপকৃত হওয়া কমে যাবে।
নিশ্চয় ইবাদতের হুকুম আহকামের মধ্যে নতুন কিছু তৈরী করা বিদয়াত , আর বিদয়াত হল পরিত্যাজ্য । কেননা তা আল্লাহ তায়ালার এই আয়াতের রহেস্যের সাথে সাংঘর্ষিক । আয়াতটি হল (الْيَوْمَ أَكْمَلْتُ لَكُمْ دِينَكُمْ )
আজ তোমাদের জন্য তোমাদের দ্বীন কে পরিপূর্ণ করলাম ।(সুরা আল মায়িদা ৩ )
কিন্তু এটা যদি হয় কোন সুফি তরিকার কোন যিকির আযকার ও অজিফা তাহলে তা বেদয়াত নয় । তবে শর্ত হল এই ধরনের যিক্র আযকারের ক্ষেত্রে তার আসল টি কোরআন ও সুন্নাহ থেকে সংগ্রীহিত হতে হবে । এবং স্বীকৃত সুন্নাতের ভিত্তি ও মূলনীতির খেলাফ হতে পরবেনা। এবং তা পরিবর্তন করা যাবেনা যদিও তা বিভিন্ন আকৃতি প্রকৃতি ও পদ্ধতির হয়।
16. Page
কিন্তু উলামাদের একদল এই সকল কাজের কিছু অংশকে বেদয়াত বলেছেন । তবে তারা এটাকে বেদয়াতে হাসানা বিসাবে ইল্লেখ করেছেন। ইমাম আর রাব্বানী মুজাদ্দেদ আলফে ছানী (রঃ) বলেছেন ঃ
” আমি আধ্যাত্বিক ও রূহানী জগতে চলতে গিয়ে দেখেছি যে সকল যিক্র ও আযকার রাসূল (সাঃ) থেকে বর্ণিত সেগুলোকে খুবই আলোকিত ও সুন্নাতের আলোক রশ্মিতে ঝলঝল করছে। আর যখন রূহানী জগতে ঐ সকল অজিফা ও শক্তি শালী ও সুষ্পষ্ট অবস্থা দেখতেছিলাম যা রাসূল (সাঃ) থেকে বর্ণিত নয় ঐ নূর ছিল না। আর আমি স্পষ্ট করে বলছি ঐ রূহানী জগতের এই অবস্থাটি প্রথম অবস্থ্ার ধারে কাছেও পৌছাতে পারবেনা । ফলে আমি বুঝতে পেরেছি যে, নিশ্চয় মহান সুন্নাতের আলোক রশ্মি গুলো পরশমণির ন্যায় তার সাথে যা কিছু স্পর্শ করবে তাই আলোকিত হবে। সুতরাং যারা নূর পেতে চান তাদের জন্য সুন্নাতই যথেষ্ট। তার বাইরে অন্যকিছু থেকে নূর তালাশ করার প্রয়োজন নাই।
এই রায়টিই শরীয়ত ও বাস্তবতার মহানায়ক । যা স্পষ্ট করে দিচ্ছে যে, আলোকিত সুন্নাতই হল দুনিয়া ও আখেরাতের সৌভাগ্যের কষ্টিপাথর ও কামালিয়াত বা পরিপূর্ণতা লাভের খনি ও কেন্দ্রস্থল।
হে আল্লাহ আমাদেরকে আলোকিত সুন্নাতের অনুসরণ করতে তাওফিক দান কর। আমিন ।
(رَبَّنَا آمَنَّا بِمَا أَنْزَلْتَ وَاتَّبَعْنَا الرَّسُولَ فَاكْتُبْنَا مَعَ الشَّاهِدِينَ )
হে আমাদের প্রভু! আপনি যা নাযিল করেছেন আমরা তার প্রতি ঈমান এনেছি এবং এই রাসূলের অনুসরণ করেছি, তাই আপনি আমাদের (নাম) লিখে নেন সাক্ষ্যদানকারীদের সাথে। ( সূরা আল ইমরান ৫৩)


