সপ্তম পয়েন্ট
NAVIGATION
11. Page
সপ্তম পয়েন্ট: নিশ্চয় আল্লাহর রাসূল (সাঃ) এর সুন্নাত হল বহুবিধ আদবের সমাহার এমন কোন বিষয় নেই যে বিষয়ের মধ্যে তাঁর কোন নূর ও আদব নেই । রাসূল (সাঃ) বলেছেন ( أَدَّبَنِي رَبِّي فَأَحْسَنَ تَأْدِيبِي ) আমার রব আমাকে আদব শিক্ষা দিয়েছেন । অত:পর আমার আদব শিক্ষা টা কতইনা উত্তম হয়েছে।
যে ব্যক্তি রাসূল (সাঃ) এর জীবনীতে গভীর দৃষ্টিপাত করবে এবং সুন্নাত সম্পর্কে জানবে সে নিশ্চত ভাবে বুঝতে পারবে য়ে, নিশ্চয় আল্লাহ তা’য়ালা তাঁর হাবীবের মাঝে সকল ধরনের শিষ্টাচারের সমন্বয় করেছেন। তাই যে তাঁর সুন্নাত পরিত্যগ করল সে শিষ্টাচার পরিত্যাগ করল। ফলে সে মন্দ শিষ্টাচার , অনৈতিক আচরণে পতিত হল ও ক্ষতিগ্রস্থ হল। তার এ অবস্থা ফারসি ভাষায় বর্ণিত একটি কায়দায় সুন্দর ভাবে ফুটে উঠেছে:
"بَيْ أَدَبْ مَحْرُومٌ بَاشَدْ أَزْ لُطْفِيْ رَبِّي" অর্থাৎ বেয়াদাব তথা মন্দ শিষ্টাচার সম্পন্ন ব্যক্তি আল্লাহর অনুগ্রহ ও ইহসান থেকে বঞ্চিত হয় ।
প্রশ্ন: অদৃশ্যের মহাজ্ঞানী সকল বিষয়ের সর্বদ্রষ্টা ও জ্ঞানীর সাথে কিরূপ শিষ্টাচার করতে হবে যার নিকট কোন কিছুই গোপন নেই এমকি লজ্জাকর অবস্থাও তাঁর নিকট গোপন নেই। নিশ্চয় আদব সমূহের মধ্যে একটি অন্যতম আদব হল সতর ঢাকা আছ্ছাদিত করা এবং যে সকল অবস্থা বিরক্তিকর ও অপছন্দনীয় যা গোপন করা আবশ্যকীয় হয়ে পড়ে । যা গায়েবের মহাজ্ঞানীর নিকট থেকে গোপন রাখা সম্ভব নয়?
উত্তর :
প্রথমত : যেরূপ ভাবে মহা মর্যাদাবান সৃষ্টিকর্তা তাঁর সৃষ্টি সমূহকে পরিপূর্ণ গুরুত্ব ও যত্ন সহকারে সুন্দর ভাবে প্রকাশ করতে চন । অনুরূপ ভাবে তিনি প্রকাশ করতে চান তাঁর সৃষ্টিকুল ও বান্দাদেরকে অন্যান্য জ্ঞানীদের সামনে সুন্দর আকৃতিতে ও সুন্দর অবস্থায়। তাই তাদের কুৎসিত অবস্থায় প্রকাশ হওয়া এক ধরনের অবাধ্যতা ও বেয়াদবী তাঁর কিছু নামের সাথে যেমন- আল-জামীল (মহা সুন্দর), আল-মুযায়্য়িন ( মহা সুসজ্জিত) ,আল-লাতীফ ( পরম দয়াময়)ও আল- হাকীম (মহা
12. Page
প্রজ্ঞাময়) ইত্যাদি। আর রসূল (সাঃ) এর সুন্নাতের সাথেও একই ধরনের আদব বজায় রাখতে হবে। সেটা হল ঐ মহা মর্যাদাবান সৃষ্টিকর্তার পবিত্র নাম সমূহের আওতার মধ্যে নিরেট শিষ্টাচারে সুশভিত হওয়া।
দ্বিতীয়ত যেরূপ ভাবে চিকিৎসার প্রয়োজনে একজন চিকিৎসক কোন মহিলার গোপন অঙ্গ প্রত্যঙ্গ দেখতে পায় এবং প্রয়োজনে তা খুলতে পারে। এটাকে কেউ সীমালঙ্গন বলবে না। বরং বলবে চিকিৎসার প্রয়োজনে তাদেখা হয়েছে। এটাই চিকিৎসার আদব । এ ক্ষেত্রে ঐ চিকিৎসকের জন্য এটা বৈধ নয় একজন দা’য়ী হিসাবে অথবা সদুপদেশকারী হিসাবে বা শিক্ষক হিসাবে বা আলেম হিসাবে ঐ মহিলাদের দিকে তাকানো। অনুরূপ ভাবে ঐ মহিলাদের ও বৈধ নয় তাদের নিকট তার অঙ্গ প্রত্যঙ্গ প্রদর্শন করা। এধরনের প্রদর্শন দুষনীয় ও নির্লজ্জতা ।
অনুরূপ ভাবে মহিয়ান সৃষ্টিকর্তার অসংখ্য নাম রয়েছে এবং প্রত্যেক নামের বিশেষ বিশেষ প্রভাব রয়েছে। উদহরণ স্বরূপ : যেমন: আল গাফফার নাম দাবী করে গুনাহের অস্থিত্বের । আস সাত্তার নাম দাবী করে ত্রুটি বিচ্ছুতির । অনুরূপভাবে আল জামীল নাম চায়না মন্দ জিনিষ প্রত্যক্ষ করা। আল কামালিয়াত ও জামালিয়াতের নাম যেমন আল লতীফ আল কারীম আর রাহীম দাবী করে সকল সৃষ্টিকুল তাদের সাধ্যানুসারে সুন্দর আকৃতি ও সর্বোত্তম অবস্থায় থাকা।
ঐ সকল জামালী ও কামালী নাম সমূহ তাদের সৌন্দর্যটা দেখতে চায় আধ্যাতিকতা ফেরেশতা জিন ও মানুষের দৃষ্টিতে সৃষ্টিকুলের সৌন্দর্য ও সৃঙ্খলার মাধ্যমে।
আর এরূপই আলোকিত সুন্নাতের মধ্যে যে আদাব ও বিধিবিধান রয়েছে তা ঐ সকল মহান সুমুজ্জল আদাব, তার বিধিবিধান ও নমুনার দিকে ইশারা করছে।
TABLE OF CONTENTS
TABLE OF CONTENTS


